World Happiness Report 2026: বিশ্বজুড়ে মানুষের সুখ দুঃখের পরিমাপ করতে প্রতি বছর প্রকাশিত হয় ওয়ার্ল্ড হ্যাপীনেস রিপোর্ট। ২০২৬ সালের রিপোর্ট আবারো তুলে ধরেছে এক কঠিন বাস্তব। বিশ্বের বহু দেশ এখনো যুদ্ধ দারিদ্র রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে বসবাস করছে। এসব কারণে কিছু দেখতে পৃথিবীর সবথেকে অসুখী দেশের তালিকায় ঠেলে দিয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সুখের সূচক নির্ধারণ করা হয় মানুষের নিজস্ব জীবন মূল্যায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতি, স্বাস্থ্য, স্বাধীনতা ও দুর্নীতির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে। এই সুচকে সবথেকে নিচের দিকে থাকা দেশগুলির অবস্থাই সবথেকে উদ্বেগ জনক।
২০২৬ সালের তালিকায় সব থেকে অসুখী বেশ হিসেবে আবার উঠে এসেছে আফগানিস্তান। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ রাজনৈতিক অস্থিরতা নারীদের উপর বিধি নিষেধ এবং চরম অর্থনৈতিক সংকট সবমিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে অত্যন্ত কঠিন। মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যেমন সংকট পূর্ণ তেমনই ভবিষ্যৎ নিয়েও রয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
আফগানিস্তানের পরেই রয়েছে সিয়েরা লিওন এবং মালাউই। এই দেশগুলোতে দারিদ্রতা বেকারত্ব এবং দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
মৌলিক পরিষেবা যেমন স্বাস্থ্য শিক্ষা বা পুরস্কার পানীয় জল সবকিছুরই অভাব রয়েছে বহু অঞ্চলে।
এছাড়া ও লেবাননও এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য ভাবে নিচের দিকে রয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা মুদ্রাস্ফীতি রাজনৈতিক অচল অবস্থা এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সংকট মানুষের জীবন যাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। একইভাবে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইয়েমেন বা সংঘর্ষে জড়িত কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলিতেও মানুষের জীবন প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে।
এই দেশগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘ মেয়াদি অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা। কোথাও যুদ্ধ কোথাও রাজনৈতিক সংঘাত আবার কোথাও চরম দারিদ্র্য মানুষের সুখ কেড়ে নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি সামাজিক নিরাপত্তা সুস্থ প্রশাসন এবং মানুষের প্রতি আস্থা এইসব উপাদানের সুখের মাত্রা নির্ধারণে বন ভূমিকা নেয়।
অন্যদিকে একই রিপোর্ট দেখা গেছে যে ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলি ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের সবথেকে সুখী দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। সেখানে সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা শিক্ষা ও মানুষের মধ্যে পারস্পারিক বিশ্বাস অত্যন্ত শক্তিশালী।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের রিপোর্ট আমাদের সামনে এক বস্ত্র বার্তা দেয় শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, মানুষের মানসিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় প্রকৃত সুখের ভিত্তি। আর এই জায়গাতেই বিশ্বের সব থেকে অসুখী দেশগুলি এখনো পিছিয়ে রয়েছে অনেকটাই।











