Who cannot be arrested in India: ভারতে আইন অনুযায়ী সবাই সমান হলেও কিছু নির্দিষ্ট পদে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা বা ইমিউনিটি দেওয়া হয়েছে। ফোনে অনেকেই ভাবেন কিছু মানুষকে কি সত্যি গ্রেফতার করা যায় না? এর উত্তর পুরোপুরি “হ্যাঁ”বা “না” নয় বরং কিছু শর্তের ওপর নির্ভর করে।
সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬১ অনুযায়ী দেশের রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যের রাজ্যপাল তাদের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার যোগ্য নন। অর্থাৎ তাদের বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারি মামলা চালানো বা গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু করা যায় না, যতদিন পর্যন্ত তারা এই পদে আছেন।
এই আইনের উদ্দেশ্য হলো দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের কাজ করার ক্ষেত্রে যেন কোন বাধা না আসে এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বজায় থাকে। তবে এর মানে এই নয় তে তারা আইনের ঊর্ধ্বে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত বা অভিযোগ ভবিষ্যতে করা যেতে পারে যখন তাদের মেয়াদ শেষ হবে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে বিদেশি কূটনীতিকদের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে। যাকে বলা হয় ডিপ্লোম্যাটিক ইমিউনিটি। এই নিয়ম অনুযায়ী কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতিনিধি অন্য দেশে সাধারণত গ্রেপ্তারি বা বিচারাধীন হন না।
সব ক্ষেত্রেই এই সুরক্ষা সম্পূর্ণ নয়। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের অনুমতি নিয়ে ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, অনেকেই মনে করেন সংসদ সদস্য বা বিধায়কদের গ্রেপ্তার করা যায় না। কিন্তু এটি ভুল ধারণা, তাদেরও গ্রেপ্তার করা যাই তবে সংসদের কাজ চলাকালীন কিছু সীমিত সুবিধাবাদ প্রিভিলেজ থাকে যেমন সংসদে বক্তব্য দেয়ার জন্য আইনি দায় মুক্তি।
অন্যদিকে আইনজীবীদের ক্ষেত্রেও একটি সীমিত সুরক্ষা রয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি গ্রেপ্তার করা যায় না বিশেষ পরিস্থিতিতে বিচারিক অনুমতি প্রয়োজন হয়।
তবে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে আইন স্পষ্ট যদিও কোন ব্যক্তি অপরাধে জড়িত হন বিশেষ করে গুরুতর অপরাধে তাহলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারে অনেক সময় ওয়ারেন্ট ছাড়াও।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২ নাগরিকদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক অধিকার দেয়, যেমন গ্রেফতারের কারণ জানানো এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো বাধ্যতামূলক।
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, ভারতে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন যাদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার করা যায় না বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপাল। তবে সুরক্ষা স্থায়ী নয় এবং আইনের উর্ধ্বে কেউ না। আইন সবার জন্য সমান শুধু কিছু পদে থাকা অবস্থায় সামরিক সুরক্ষা দেওয়া হয়।।











