British Royal Family foods Rules: রাজকীয় জীবন মানেই বিলাসবহুল খাবার এমনটাই অনেকের ধারণা। কিন্তু বাস্তবে বৃটেনের রাজ পরিবারের খাবার তালিকায় বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়ম বাধা রয়েছে। রাজকীয় প্রটোকল স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং সামাজিক সৌজন্যের কারণে কিছু খাবার তারা সচরাচর এড়িয়ে চলে। এমনকি রাজপ্রাসাদের রান্নাঘরেও এই নিয়ম কঠোরভাবে মানা হয়। প্রাক্তন রাজকীয় শেফ ও প্রাসাদ কর্মীদের মতে, অন্তত সাত ধরনের খাবার রয়েছে যেগুলো রাজ পরিবার সাধারণত খেতে চান না।
- প্রথমতঃ প্রথমেই রয়েছে সেলফিশ বা সামুদ্রিক ঝিনুক জাত খাবার। চিংড়ি কাঁকড়া বা ওয়েস্টার এর মত খাবার অনেক সময় কাচা বা অল্প রান্না করা হয়, ফলে এতে খাদ্য বিষক্রিয়া ঝুঁকি বেশি থাকে। রাজ পরিবারের সদস্যরা প্রায় বিদেশ সফরে যান এবং তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা রাখা হয়। তাই নিরাপত্তার কারণে এই খাবার সাধারণত তাদের রাজকীয় মেনুতে থাকে না।
- দ্বিতীয়তঃ রসুন রাজকীয় খাবারে প্রায় নিষিদ্ধ বলেই চলে। রসুন খাওয়ার পর মুখে তীব্র গন্ধ থেকে যায়। যার আজ পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অস্বস্তিকর হতে পারে তাই প্রাসাদের রান্নাঘরের রসুন প্রায় ব্যবহার করা হয় না।
- তৃতীয়তঃ রসুনের সঙ্গে পিঁয়াজও অনেক ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলা হয়। কারণ কাঁচা বা বেশি পেঁয়াজ খেলে মুখে তীব্র গন্ধ তৈরি হতে পারে। রাজকীয় সৌজন্য বজায় রাখতে এই ধরনের খাবার কম ব্যবহার করা হয়।
- চতুর্থ: কাঁচা বা অল্প সিদ্ধ মাংসর রাজ পরিবার সাধারণত খান না। স্টেক টারটার বাহ খুব রেয়ার স্টেকের মতো খাবারে ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মাংস সাধারণত ভালোভাবে রান্না করেই পরিবেশন করা হয়।
- পঞ্চমতঃ খাবারটি হলো ফোয়া গ্রা হাঁস বা রাজহাঁসের লিভার দিয়ে তৈরি একটি নামে দামি ফরাসি পদ। রাজার চার্লস প্রাণী কল্যাণের কথা মাথায় রেখে এই খাবার রাজপ্রাসাদে পরিবেশন নিষিদ্ধ করেছেন, কারণ এটি তৈরির পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।
এর পাশাপাশি রাজ পরিবার সাধারণত মৌসুমের বাইরে ফল খেতে চান না। প্রকৃতির স্বাভাবিক ঋতুচক্র মেনে চলার ধারণা থেকেই এই অভ্যাস এসেছে। তাজা ও মৌসুমী খাবার কেই তারা বিশেষ গুরুত্ব দেন।
আরও পড়ুন: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টার্নশিপ ২০২৬ | মাসে ৫০০০ টাকা স্টাইপেন্ড
অবশেষে, অতিরিক্ত পরিশোধিত চিনি বা চিত্রের মিষ্টি রাজ পরিবারের অনেক সদস্য কম খেতে পছন্দ করে। বিশেষ করে রাজার চার্লস প্রাকৃতিক মধুর মতো বিকল্পকে বেশি গুরুত্ব দেন। যদিও রানী এলিজাবেথ মাঝে মাঝে চকলেট পছন্দ করেন, তবু অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলার প্রবণতার আজ পরিবারে দেখা যায়।
সবমিলিয়ে দেখা তাই রাজ পরিবারের খাবারের তালিকা শুধু বিলাসিতা নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বাস্থ্য ও শিষ্টাচার এবং নৈতিকতার বিষয়ক। তাই অনেক জনপ্রিয় খাবারই রাজকীয় থালাই জায়গা পায় না।








