Post Lunch Sleepiness causes: অনেকেই প্রতিদিন দুপুরে খাবার খেতে শেষ হতে না হতেই মাথা বালিশ খোঁজে, তা আধঘন্টা বা ঘন্টা খানেক এই হোক। বাংলা ভাষায় ভাবঘুম বলে পরিচিত এই অনুভূতিটি বিষয়ের হলেও বাস্তবে এটি খুবই সাধারণ এবং শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার অংশ। পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে বা দুপুরে খাবারের পর ঘুম আসা বহু মানুষের জন্য সাধারন কিন্তু এটার পেছনে জটিল শরীর বিজ্ঞান কাজ করছে।
খাবার খাওয়ার পর শরীরের পাচন তন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ভাত রুটি বা রসালো খাবারের মতো শর্করায় সমৃদ্ধ খাবার খেলে ইনসুলিন হরমোন নিঃসরণ বাড়ে, যার রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিনের এই প্রভাবে আমাদের শরীর ক্রিপটোফেন নামে অ্যামিনো এসিডকে মস্তিষ্ককে ঢুকতে সাহায্য করে, যেখানে তার সেরোটোনিন ও মেলার টোনিন হরমোন এ রূপান্তরিত হয় যেটা ঘুম ও প্রশান্তিতে ভূমিকা রাখে।
আরেকটি কারণ হলো আমাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সক সার্কাডিয়ান রিদম। দিনের প্রথমার্ধে আমাদের শক্তি ও সজাগতার মাত্রা সাধারণত বেশি থাকে, তবে দুপুর বেলায় ঠিক এই সময়ে শরীরের ঘুম জাগরণ ছন্দে স্বাভাবিক একটি নিম্নগামী ধাপে থাকে। যখন এই জৈবিক নিম্ন বিন্দু লাঞ্চের পরে খাবারের পচনে যুক্ত হয়, তখন ক্লান্তিও ঘুম অনুভূতিটি আরো বেশি স্পষ্ট হয়।
| বিষয় | সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা |
|---|---|
| ইনসুলিনের প্রভাব | উচ্চ কার্বোহাইড্রেট খাবার ইনসুলিন বাড়ায়, যা সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরিতে সাহায্য করে এবং ঘুমভাব আনে |
| ট্রিপটোফেন ভূমিকা | অ্যামিনো অ্যাসিড ট্রিপটোফেন মস্তিষ্কে গিয়ে ঘুমের হরমোন তৈরি করে |
| সার্কাডিয়ান রিদম | দুপুরে শরীরের জৈবিক ঘড়িতে স্বাভাবিক শক্তি হ্রাস ঘটে |
| ভারী খাবার | তেল-চর্বিযুক্ত ও অতিরিক্ত প্রোটিন হজমে বেশি শক্তি লাগে, ফলে ক্লান্তি বাড়ে |
| পাওয়ার ন্যাপ | ১৫–২০ মিনিটের হালকা ঘুম মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে |
| সতর্কতার লক্ষণ | অতিরিক্ত তন্দ্রা হলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা ঘুমের অভাবের ইঙ্গিত হতে পারে |
| সমাধান | হালকা খাবার, ছোট মিল, পর্যাপ্ত পানি ও রাতের ভালো ঘুম |
ধারণা আছে যে শুধুমাত্র বড় পরিমাণ খাওয়ায় ঘুমের কারণ, কিন্তু বিষয়টি আরো কিছুটা জটিল। ভাত বা উচ্চ কার্বোহাইড্রেটের ভরপুর খাবার মিষ্টি ভাজা তেল ভরার খাদ্য বা ভারী প্রোটিনযুক্ত খাবার গুলি হজম শক্তিতে শরীরের শক্তি বেশি ব্যবহার করে ফলে শক্তি সরবরাহ কমে যায় এবং ঘুম অনুভব বেড়ে যায়।
একাধিক গবেষণা বলছে, যখন শরীর বিপুল শক্তি পচন কাজ ব্যয় করে, তখন অন্যান্য শারীরিক কর্ম যেমন অফিসে মনোযোগ বজায় রাখা কম কার্যকর হয়, এবং এটি ক্লান্তিও ঘুমের অনুভূতি বাড়ায়।
মৃদু ঘুম, বিশেষ করে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করতে পারে এবং দুপুরে মনোযোগ বাড়াতে পারে যদি একটি খুব দীর্ঘ হয় তবে রাতের ঘুমে বিঘ্ন ঘটায় না।
আরও পড়ুন: বীরভূমের স্বচ্ছ ভারত মিশনের জন্য বড় চাকরির সুযোগ অ্যাসিস্ট্যান্ট জেলা কো-অর্ডিনেটর পদে নিয়োগ শুরু
তবে নিয়মিত দীর্ঘক্ষণ ঘুমানো বা দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম্পনা থাকলে এটি শুধু স্বাভাবিক ক্লান্তি নয় বরং রাতের যথেষ্ট ঘুমের অভাব শরীরের মেলাটোনিন সেরোটোনিন অনিয়ম, বা অন্য কোন শারীরিক অবস্থা যেমন হাইপোগ্লাইসেমিয়া ইত্যাদি লক্ষণও হতে পারে। যদি ঘুম এসে দিন ধরে থাকে, দিনের কাজকে প্রভাবিত করে তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
কিছু কাজ যেগুলো তন্দ্রা কমানো যায়
- হালকা ও সুষম খাবার বেছে নিন-ভারী অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবারের বদলে পরিমাণ মতো প্রোটিন, স্যালাড ও শাকসবজি খান
- ছোট ছোট খাবার দিনভর খান-বড় বড় খাবার এটি ঠেকানো শক্তি সৃষ্টি করে, যা ক্লান্তি বাড়াই
- পর্যাপ্ত জল পান ও রাতে ভালো ঘুম নিন, রাতে ঘুমানো ক্লান্তি কমা এবং সারা দিনে শক্তি ধরে রাখে।
দুপুরে খাবার খাওয়ার পরে ঘুম আসা সাধারণত শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হরমোন হজম প্রক্রিয়া ও জৈবিক ছন্দের মিলিত প্রভাবে হয়। তবে যদি ঘুমের চাপে কাজ বাদ দৈনন্দিন জীবন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, তাহলে খাদ্যাভাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা বা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।
Please Visit – trendypavilion.com










