Vani Kapoor Mandala Murders: চলতি বছরের ২৫শে জুলাই ‘মান্ডালা মার্ডারস’ নামক চলচ্চিত্রটি নেটফ্লিক্সে প্রিমিয়ার হবে। ‘ম্যান্ডালা মার্ডারস’- নামক সিনেমার মাধ্যমে অভিনেত্রী বাণী কাপুর, পর্দায় প্রথমবারের জন্য উজ্জ্বল, গ্ল্যামারাস চরিত্রে অভিনয় এর পরিবর্তে আত্মদর্শনমূলক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘মর্দানি ২’-এর গোপী পুথরান দ্বারা নির্মিত এই অনুসন্ধানী থ্রিলার ফিল্মটি অপরাধ ও পৌরাণিক কাহিনীএবং আত্মদর্শন ও অ্যাকশনের মিশ্রণ। এক সাক্ষাৎকারে বাণী নিজেকে চ্যালেঞ্জ করা, সমালোচনার মুখোমুখি হওয়া, ছেড়ে দিতে শেখা প্রভৃতি সম্পর্কে মুখ খুলেছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই সম্পর্কে বিস্তারিত।
প্রশ্ন: মান্দালা মার্ডারসের মতো একটি প্রজেক্ট আপনার ডিজিটাল অভিষেক হিসেবে গ্রহণ করা কি আপনার সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল, যেখানে আপনি এমন কিছু করেন যা আপনাকে চলচ্চিত্রে অফার করা হয়নি?
বাণী কাপুর বলেছেন, “আমি এটা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। আমি উত্তেজিত হয়েছিলাম। আমি খুশি হয়েছিলাম যে কেউ আমার মধ্যে সেই সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছে । আমাকে এমন একটি চরিত্রে চিত্রিত করার এবং মান্ডালার মতো একটি মহাবিশ্বে কল্পনা করার জন্য। গল্পটি বেশ শক্তিশালী। এটি কাল্পনিক, তবে এটি কেবল অপরাধ সম্পর্কে নয়, এটি পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে মিশে গেছে। এটি আপনাকে আপনার বিশ্বাস, আপনার বেছে নেওয়া বিষয় এবং এর ফলে কী পরিণতি হবে তা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। আমার মনে হয় প্রত্যেকেরই এমন একটি মুহূর্ত আসে, যখন তারা ভাবে যে, আমি এমন, আমি এটা বিশ্বাস করি। আর বিশেষ করে আমি সবসময় এমনই করি।”
প্রশ্ন: যখন আপনি শুটিং শেষ করলেন, তখন আপনি নিজের সম্পর্কে কী শিখলেন — এমন কিছু যা আপনি জানতেন না যে আপনি করতে সক্ষম?
বাণী কাপুর বলেছেন,”সুপারম্যানের মতো উড়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছু – সেটা সিজিআই-এর জন্য! কিন্তু হ্যাঁ, আমি বুঝতে পেরেছি যে, আমি নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে ভালোবাসি। আমি আমার সীমা পরীক্ষা করতে চাই, আমার দুর্বলতা খুঁজে বের করতে চাই এবং সেগুলোকে শক্তিতে পরিণত করতে চাই। অভিনয় আবেগগত এবং শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর। নেপথ্যের কাজ, অভিনয়, অ্যাকশন, সবকিছুই বেশ ক্লান্তিকর। একটা দিন আমি টানা ১৭ ঘন্টা শুটিং করেছি। আমি এত ক্লান্ত ছিলাম যে, আমার শেষ দৃশ্যটিও মনে করতে পারিনি! এটা অস্বাস্থ্যকর এবং আমি এটা সুপারিশ করবো না, কিন্তু আমি এটা করেছি, কারণ আমি এটা ভালোবাসি।”
আরও পড়ুন: মহারাজা ভাবে প্রত্যাবর্তন করছেন মোহনলাল কবেও কোথায় দেখবেন জেনে নিন বিস্তারিত
প্রশ্ন: এই ধরণের চাপ এবং তীব্রতা আপনাকে ক্লান্ত করে তুলতে পারে। যখন চাপ খুব বেশি হয়ে যায় তখন কী হয়?
বাণী কাপুর এর বক্তব্য, “আমি কাঁদি। আমি এটা আমার ভিতর থেকে বের করে দিই। আমি একজন গভীর আবেগপ্রবণ মানুষ, কিন্তু আমি শিখেছি যে , এটাকে আমার ওপর এতটা প্রভাব ফেলতে দেওয়া উচিত নয় যে, আমি কাজ করতে পারি না। লোকেরা প্রায়শই আমাকে বলে যে, আমার মোটা চামড়ার হওয়া উচিত, কিন্তু আমি নই। আর আমি মনে করি না যে, আমি হতে চাই। আমি জিনিসগুলিকে মনে রাখি। আমি অতিরিক্ত চিন্তা করি – যারা আমাকে চেনে, তারা একমত হবে, কিন্তু আমি এটাও বোঝার চেষ্টা করি যে, আমার ভুল কোথায় হতে পারে। আমি সবসময় চেষ্টা করি গতকালের চেয়ে ভালো হতে, আমার যতটুকু ক্ষমতা থাকুক না কেন।”
প্রশ্ন: আর যখন সমালোচনা হয়, তখন আপনি কীভাবে তা মোকাবেলা করেন?
বাণী কাপুর বলেন যে, “যদি এটি গঠনমূলক হয়, তাহলে আমি এটিকে অনেক মূল্য দিই। আমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করি, আমি কি যথেষ্ট ভালো ছিলাম না? কিছু কি সংযুক্ত হয়নি? কিন্তু সবার কাছ থেকে আপনি প্রশংসা পাবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সবাই সমালোচক এবং এটা ন্যায্য যে, দর্শকরা টিকিট বা সাবস্ক্রিপশনের জন্য অর্থ প্রদান করছে। তাদের সৎ থাকার অধিকার আছে, কিন্তু যদি কারো গঠনমূলক কিছু বলার না থাকে, তাহলে আমার মনে হয় না তাদের কিছু বলা উচিত। আমি যেসব বিষয়ের সঙ্গে একমত নই সেগুলোর এড়িয়ে যাই। মানুষের নেতিবাচকতা আমি ঠিক বুঝতে পারি না। কাউকে ভেঙে ফেলার জন্য মানুষ কতটা শক্তি ব্যয় করতে পারে?”
প্রশ্ন: এই ধরণের সমালোচনা, ট্রোলিং, এটা ক্লান্তিকর এবং মনোবল ভেঙে দেয়। এর জন্য কি কখনও নিজের আত্মমর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন?
বাণী কাপুর এর উত্তর, “হ্যাঁ, অবশ্যই। আর আমার খারাপ লাগছে, শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যদের জন্যও। সবাই কিছু না কিছুর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেমন উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ইত্যাদি। আমি এমন কাউকে চিনি না যে, যার এইধরনের অভিজ্ঞতা নেই। তবুও আমরা একে অপরের সঙ্গে এমন করি। আমরা একে অপরকে ছোট করি।”
প্রশ্ন: আপনি আগেই বলেছিলে যে, মান্ডালার সঙ্গে আপনার এই দিকটা দেখেছে বলে তুমি কৃতজ্ঞ। আপনার কি কখনও মনে হয় যে, এই ধরণের সুযোগ বারবার আসেনা?
বাণী কাপুর বলেন যে, “এমনও কিছু দিন আসে, যখন আমার ইচ্ছা হয় আমি কোনো কিছুর অংশ হতে পারি। যখন আমি ভাবি, কেন সেই চলচ্চিত্র নির্মাতা আমাকে সেইভাবে দেখতে পেলেন না? কিন্তু আমি এখন এটা ঈশ্বরের উপর ছেড়ে দিতে শুরু করেছি। যদি আমি এর যোগ্য হই, তাহলে এটা আমার কাছে আসবে। যদি অন্য কেউ এই চরিত্রের জন্য ভালো হয়, তাহলে তাই হোক। আমি শিখেছি, আমার কাছে যা আছে, আমি তার সবটা উপভোগ করবো। আমি বলতে পারবো না, আমার কাছে এটা নেই, তাই আমি এটাও চাই না। হয়তো আমি যেখানে থাকতে চাই, সেখানে পৌঁছাতে আমার বেশি সময় লাগবে, তবে, আমি এগিয়ে যাচ্ছি। আমি আটকে নেই। আমি পিছিয়ে যাচ্ছি না।”











