Asia Cup Final 2025: দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ভারত পাকিস্তান ফাইনাল মানেই আলাদা মাত্রার উত্তেজনা। এবারের এশিয়া কাপ ফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস লড়াই উপহার দিল দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী দল। তবে শেষ হাসি হাসলো ভারত। তারা তিনবার পাকিস্তান কে হারিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপার নিজেদের করে নিল তারা।
গিলের আউটে স্তব্ধ গ্যালারি
ম্যাচের শুরুতে ধাক্কা খায় ভারত। শুভমান গ্রিলের কাজ মিড অনে অবিশ্বাস্য লাফিয়ে নেন হ্যারিস রাউফ। তোর বউকে তখন ভারতের তিন উইকেট মাত্র ২০ রানে। গ্যালারিতে ভারতীয় সমর্থকদের মুখে হতাশা ছায়া। মনে হচ্ছিল, ফাইনাল হাতছাড়া হতে চলেছে। কিন্তু ক্রিকেটের অমোঘ সত্যিই আবার প্রমাণিত হলো শেষ পর্যন্ত লড়াই না করে কিছু বলা যায় না।
পাকিস্তানের ঝড়ো সূচনা
টসে হেরে ব্যাক করতে নেমে পাকিস্তান শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল। ওপেনার ফখর জামান ও সাবিব জাদা ফারহান প্রথম ৯ ওভারে ৭৭ রান তোলে। বিশেষ করে ফারহানের খেলা নজর কাড়ে। ভারতের আগের ম্যাচেও তিনি অর্ধশতরান করেছিলেন, এদিনও একই কায়দায় এগোচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিল পাকিস্তান অনায়াসে ২০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
হঠাৎ ব্যাটিং ধস
কিন্তু ক্রিকেটের চিত্রনাট্য অন্য ছিল। ১৩ তম ওভারে সাইম আইয়ুব আউট হতেই ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং। এরপর ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে তারা। আইউব এর পরপরই ফেরেন হ্যারিস, আর তারপরেই ফখর জামান। থেকে মুহূর্তে স্কোর বোর্ডে ১৪৬ অল আউট। মাত্র সাত ওভারের নয় উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান ম্যাচ নিজের হাতেই ছুঁড়ে দেয়। দর্শকভরা দুবাই স্টেডিয়াম, যা শুরুতে পাকিস্তান সমর্থকদের গর্জনে মুখর ছিল, সেখানে হঠাৎই নিস্তব্ধতা নেমে আসে।
ভারতের কৌশলের বদল
শুরুর দিকে স্পিনাররা বাড়তি গতিতে বল করছিলেন। পাকিস্তানের ব্যাচাররতা সহজেই খেলছিলেন। কিন্তু দশ ওভারের পর ভারতীয় কৌশল বদলে যায়। কুলদীপ যাদব ও বরুন চক্রবর্তী গতি কমিয়ে বল করতে শুরু করেন। এই পরিবর্তনই আসে সাফল্য। স্পিনাররা মিলে 13 ওভারে 8 উইকেট তুলে নেন। পাকিস্তানের বেটাররা একের পর এক খারাপ শটে উইকেট বিলিয়ে দেন। যদিও বুমরাহ ছন্দে ছিলেন না। রান দিয়েছেন প্রচুর, উইকেটে ও এসেছে কেবল শেষ দিকে। হার্দিক পান্ডিয়ার অনুপস্থিতি বেশ বোঝা গেছিল এই ম্যাচে।
ভারতের ইনিংস ও তিলকের দৃঢ়তা
পাকিস্তানের ১৪৭ রানের লক্ষ্য তারা করতে নেমে ভারত ও সহজে এগোতে পারেনি। তিন উইকেট মাত্র কুড়ি রানে হারিয়ে চাপ বাড়তে থাকে। তখন সমর্থকদের বুক কেঁপে ওঠে। তবে পরিস্থিতি সামাল দেন তরুণ ব্যাটার তিলক বর্মা। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হাতে রেখে ভারত লক্ষ্যে পৌঁছায়।
ফাইনাল মানেই আলাদা চাপ, আলাদা আবহাওয়া। দুবাইয়ের গ্যালারি দুই দলের সমর্থকদের আবেগ সব মিলিয়ে ম্যাচটা রুদ্ধশ্বাস হয়ে ওঠে। পাকিস্তান শুরুতে দাপট দেখালেও শেষ পর্যন্ত ভারত তার অভিজ্ঞতা ও কৌশলের জোরে ম্যাপ দিতে নেয়। তিলক বর্মার ইনিংস ভারতকে শিরোপা এনে দিলেও স্পিনারদের ভূমিকা ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ পর্যন্ত ভারত প্রমাণ করল চাপের মধ্যে মানসিক দৃঢ়তা ও সঠিক সময় পরিকল্পনা বদল করায় সাফল্যের চাবিকাঠি। টানা তৃতীয়বার পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ ঘরে তুলে ভারত আবার দেখাল তাদের চিরন্তর শক্তি শেষ পর্যন্ত লড়াই করে জেতার মানসিকতা।











