Free shopping mall in Burdwan: ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে প্রকৃতির মেজাজ। ভোরের আকাশে জমাট কুয়াশা, সন্ধ্যের পর হালকা ঠান্ডা হাওয়া, আর চায়ের কাপে থেকে উড়ে আসা ধোঁয়ার আমেজ সব মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে শীতের আগমনী বার্তা। এই সময়টা অনেকের কাছেই উৎসবের, আরাম দায়ক গরম পোশাক পড়ে ঘুরে বেড়ানোর,কিংবা শীতের সকালে নিরিবিলি মুহূর্ত উপভোগ করা। কিন্তু একই শীত যখন আরাম আনে কারোর জীবনে তখন অনেকের কাছেই, তা হয়ে ওঠে দুঃসহ সংগ্রামের কারণ।
শহর ও গ্রামের হাজারো মানুষের কাছে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই, অনেকের তো মাথা গোজার মত নিরাপদ আশ্রয়ও নেই। পথবাসী, দিনমজুর, প্রান্তিক পরিবার শীতের তীব্রতা তাদের কাছে কষ্টের অন্য নাম। তাই এই শীতের কঠিন সময়কে একটু উষ্ণ করে তুলতেই বর্ধমানের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তৈরি করেছে এক অনন্য উদ্যোগ “বিনা পয়সার শপিংমল”।
বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউটেশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে এই শপিং মলের কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সংস্থার সদস্যরা একটি টোটো ভ্যান ভর্তি করে শীতবস্ত্র নিয়ে প্রতিদিনই বের হচ্ছেন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। যেখানে যাদের প্রয়োজন সেখানেই দাঁড় করানো হচ্ছে ‘বিনামূল্যে শীতবস্ত্র স্টল’। টোটো তে সাজানো থাকে বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাক যেমন লাল, কম্বল,সোয়েটার, জ্যাকেট ,উলের টুপি মাফলার এবং শিশুদের উষ্ণ পোশাক। দুস্থ মানুষরা নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাক বেছে নিতে পারেন, ঠিক যেন কোন শপিংমল থেকে কেনাকাটা করছেন তবে একটিও টাকা খরচ না করে।
সংস্থার সম্পাদক প্রলয় মজুমদার জানান, “সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, প্রতিবছর শীত পড়লেই আমরা দেখি অনেক মানুষ খালি গায়ে বা পাতলা কাপড়ে ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন। তাদের কষ্ট লাভ করতেই আমাদের এই বিনামূল্যের শপিংমল। বর্ধমান শহরের বিভিন্ন এলাকায় আমরা ঘুরে ঘুরে পৌঁছে যাব যাতে কোন মানুষ ঠান্ডায় কষ্ট না পান”। তিনি আরো জানান, সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও ব্যবহারের উপযুক্ত শীতবস্ত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেগুলি পরিষ্কার করে বিতরণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শুধু একদিনের নয় পুরো শীতকাল জুড়ে চলবে এই মানবিক কর্মসূচি। প্রতি সপ্তাহে কয়েক দফায় বর্ধমানের বিভিন্ন মোড় ,বাজার এলাকা, স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চল, হাসপাতাল চত্বর সহ পথবাসি মানুষের উপস্থিতি রয়েছে এমন জায়গা গুলিতে পৌঁছে যাবে এই শপিং মল।
আরও পড়ুন: Bank of Baroda ক্যাপিটাল মার্কেট বিভাগে BDM পদে একাধিক শূন্যপদে নিয়োগ
এই উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশংসার ঝড় উঠেছে। বহু মানুষ নিজের পুরনো উদ্যোগে নিজের পুরনো কিন্তু ব্যবহারযোগ্য উষ্ণ পোশাক দান করছেন। স্বেচ্ছাসেবীরাও বলছেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সহযোগিতা পেলেই এই প্রচেষ্টা আরো বিস্তৃত হবে।
ঠিক শুধু উৎসব উদ্দীপনার নয়, মানবিকতারও মৌসুম। বর্ধমানের এই বিনামূল্যের শপিংমল তার এই দৃষ্টান্ত যেখানে উষ্ণতার পরিমাণ গরম কাপড় নয়, বরং মানুষের আন্তরিকতায় মাপা যায়।











