SIR Form West Bengal 2025: বর্তমানে তথ্যাবদ্ধায়ে পশ্চিমবঙ্গে চালু করা হয়েছে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশাল প্রকল্প বিশেষজ্ঞ ভাবে বলা হয় এর ধাপ। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভোটাররা নতুন একটি নির্ধারিত ফরম ‘ইনিউমারেশন ফর্ম’পূরণ করছেন। কিন্তু প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই দেখা গিয়েছে নানান ধরনের বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন, যা সাধারণ ভোটার এবং বুথ লেভেল অফিসার উভয়ের জন্য বেশ চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফর্ম ইতোমধ্যেই গৃহ বিতরণ শুরু হয়েছে। সাধারণ ভাবে এই ফর্ম প্রথম অংশে ভোটারের নাম, EPIC নম্বর বাড়ির ঠিকানা অংশ ও সিরিয়াল নম্বর সহ অন্যান্য তথ্য প্রি-প্রিন্টেড অবস্থায় থাকবে। ভোটারদের কাজ হবে এই তথ্য যাচাই করে, তার নিচের অংশে নিজে নিজে বিবরণ যেমন (মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর, সম্প্রতি তোলা রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি) পূরণ করা।
তবে এই ফর্ম পূরণে বিভিন্ন ধরনের গন্ডগোল শুরু হয়েছে –
- প্রথমত, ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছে ফর্মের ২০০২ সালের তালিকার তথ্যের অংশ নিয়ে-কারা পূরণ করবেন, আত্মীয় তথ্য কি দেওয়া যাবে ইত্যাদি।
- দ্বিতীয়ত, অনেকে অনলাইনে ফরম পূরণের পথে গেছেন, কিন্তু প্রযুক্তিগত সমস্যায় ভুগছেন যেমন আগে তাদের EPIC রং সাথে নম্বর লিঙ্ক করা নেই, নাম্বার ঠিকানা তথ্য mismatch হচ্ছে।
- তৃতীয়ত, বুথ লেভেল অফিসাররা নিজেরা যোগ্যভাবে তথ্য প্রসেসে পারদর্শী নন বলে অভিযোগ উঠছে, অনেকে বলছেন, তারা ঠিক বলতে পারছেন না কোন অংশ পূরণ করা প্রয়োজন, এবং হেল্পলাইনে কল করেও সাড়া পাচ্ছেন না।
এই সমস্ত কারণে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এক অনেক দিনের ভোটার জানিয়েছেন, “আমার নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল, এখনো ফোন দেওয়া হয়নি কি করব?” অন্য একজন জানিয়েছেন,“আমার মোবাইল নম্বরের সঙ্গে EPIC লিঙ্ক হয়নি, ফলে অনলাইনে ফর্ম দিয়ে থেমে গেছে”। এই ধরনের অভিযোগ বেড়ে চলেছে।
ইসির পক্ষ থেকে অবশ্য কিছু স্পষ্টিকরণ এসেছে:
- অনলাইনের জন্য ফরম পূরণের আগে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, এর জন্য ফর্ম ৮ ব্যবহার করে মোবাইল নম্বর আপডেট করার পর পুনরায় লগইন করতে হবে।
- ছবি অবশ্যই রঙিন ও হালকা রঙের ব্যাকগ্রাউন্ড সহ হবে, সাদা কালো ছবি গ্রহণযোগ্য নয়।
- ভুল তথ্য পূরণের ক্ষেত্রে সংশোধন করে নোট দিয়ে সই করতে হবে, পুরো ফরম পরিবর্তন সম্ভব নয় কারণ প্রতিটি ফর্মে অনন্য QR কোড রয়েছে। ভবিষ্যতে কি হওয়া উচিত
- এক জরুরী দিক হলেও বুথ লেভেল অফিসার এবং সহায়কর্মীদের যথাযথ নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া। অনেক BLO জানিয়েছেন তারা ফর্মের কিছু অংশ বুঝতে পারছেন না।
- দ্বিতীয় দিক হলো ভোটারদের জন্য নির্ভরযোগ্য হেল্পলাইন ও দ্রুত সারা দেওয়া সিস্টেম গড়ে তোলা। অনেক হেল্পলাইন নম্বর একাধিকবার ব্যস্ত লাইন দেখিয়েছে।
- তৃতীয়ত-অনলাইন বা অফলাইন উভয় পদ্ধতির সুসংগতভাবে চালু থাকতে হবে, যেন গৃহহীন, প্রবীন বা অনলাইন নিষ্ক্রিয় ভোটারদের স্বীকৃতি থেকে বাদ পড়তে না হয়।
আরও পড়ুন: অবহেলিত কচুরিপানা আজ সম্ভাবনার নতুন দিশা| জৈব সার থেকে তন্তুজ শিল্প বাণিজ্যিক ব্যবহারে বাড়ছে চাহিদা
সারসংক্ষেপে বলা যায়, এস আই আর এর পর্যায়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রযুক্তিগত অসুবিধা, তথ্যাতিত জটিলতা ও জনসচেতনতার অভাব এই উদ্যোগের গতিকে ধীর করে দিচ্ছে। ভোটারদের জন্য এখন প্রয়োজনীয় হলো সময় নিয়ে ফ্রম ভালোভাবে পড়া বুঝে পূরণ করা ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে, তবে পকেটে সময় নেই বেশি। এই ক্ষেত্রে সঠিক ছবি সঠিক মোবাইল নম্বর সঠিক প্রিপ্রিন্টেট তথ্য যাচাই করা জরুরী। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট BLO সঙ্গে যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন যাতে পরবর্তী পর্যায়ে কোনো বিপত্তি না হয়।











