Priti Sarkar: বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের পরিচিতি তৈরি করা অনেকের কাছেই স্বপ্ন নয়, বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নেট প্রভাবিতথা কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রীতি সরকার টলিউডের ক্যারিয়ার গড়ার নতুন দিগন্তে পা রাখলেন। তিনি পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়ের যাদুকরী প্রেমকাহিনী “মন মানে না” ছবিতে দ্বিতীয় নায়িকা “শ্রেয়া” চরিত্রে অভিনয় করবেন। যা তার জন্য এক বড় মাইলফলক।
বিগত কয়েক বছরের সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও, কৌতুক, চরিত্রাভিনয় ও মিনি সিরিজ নির্মাণের মাধ্যমে অনলাইনে বহু দর্শকের মন জয় করেছেন প্রীতি। তার সৃষ্ট “পাপা কি পরি”চরিত্র বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। কিন্তু এবার নিজেকে বড় পর্দায় দেখতে পেয়ে তিনি আনন্দ ও উত্তেজনা অনুভব করছেন।
“আমি তো দিনরাত ক্যামেরার সামনে থাকি, কনটেন্ট বানায়, অভিনয় করি, অভিনয় তো আমার কাজের এক অংশ”-এমনটাই জানিয়েছেন প্রীতি নিজেই। টলিউডের নেট প্রভাবীদের মূল্যায়ন নিয়ে তিনি বলেন,”বলিউড বিষয়টি বেশ খোলা মনে গ্রহণ করেছে, কিন্তু টলিউডে এখনো সেই মানতে কষ্ট হয় যে নেটপ্রভাবীরাও বড় পর্দায় পারফর্ম করতে পারে”। তার মতে, তার মতে “রিল বানানো” ও ক্যামেরা সামনে অভিনয় এই দুইয়ের মধ্যে বড় তফাৎ নেই।
অভিনয়ের পথে নতুন চ্যালেঞ্জ
রাহুল মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় “মন মানে না” ছবির জন্য অডিশনে অংশ নেওয়া প্রীতি আগে থেকেই জানতেন যে এটি সহজ হবে না। পরিচালক তার মেধা ও আবেগকে মূল্যায়ন করে ‘শ্রেয়া’ চরিত্রে এনেছেন। প্রীতি বলেন, “নিজেকে চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অনেক পরিবর্তন করতে হয়েছে, কণ্ঠস্বর এ বদল আনা, চরিত্রের আবেগ ধরতে শিখতে হয়েছে। এটাই সত্যি বড় চ্যালেঞ্জ।” সেই চ্যালেঞ্জ তিনি পেরিয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
তিনি আরো বলেন সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ করা তার অভিনয় দক্ষতাকে অনেকাংশে ব্যাপক করেছে। তাই ভয় পাওয়ার মত কিছুই ছিল না, যদিও তার বিপরীতে অন্যান্য প্রশিক্ষিত অভিনেতা ও অভিনেত্রী ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন উপলব্ধি
শুধু ক্যারিয়ারই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও সাম্প্রতিক কিছু অভিজ্ঞতা প্রীতিকে পরিবর্তিত করেছে। কাজের ব্যস্ততাই প্রিয়জনদের কাছে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, যা তিনি সময়ের সঙ্গে ঠিক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন,“নিজেকে এতটাই কাজ পাগল বানিয়ে ফেলেছিলাম যে বন্ধু, আত্মীয় ও এমন কি বাবা-মার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এখন আমি কাছের মানুষের কথাই আগেই সাড়া দেব”।
জীবনের এই সব ওঠানামা নিয়েও প্রীতি হাসিমুখে বলেন,“প্রেমে প্রচুর ছ্যাঁকা খেয়েছি, কিন্তু তবু প্রেম থেকে দূরে থাকা আমার পক্ষে কঠিন- মন মানে না।”
বন্ধুত্ব ও সহকর্মীদের কথা
“মন মানে না” ছবিতে চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে হিয়া চট্টোপাধ্যায়ও দেখছি। প্রীতি জানিয়েছেন, শিওর সঙ্গে তার খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়েছে। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ের জন্য তিনি নিজের অজ্ঞাত কিন্তু গহন প্রশংসাও করেছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অপেক্ষাকৃত কম সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে চলচ্চিত্রের জগতে প্রবেশ করে প্রীতি সরকারের ক্যারিয়ার এখন আরো পরিপূর্ণতা পাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ছবির পাশাপাশি নেট সিরিজ ও অন্যান্য অভিনয়েরও প্রস্তাব আসছে, এবং তার ব্যস্ততা আগের চেয়েও দ্বিগুণ হবে।
আরও পড়ুন: মালদা মেডিকেল কলেজে বিরাজমান ব্রিটিশ আমলের ছায়া ২০০ বছরের পুরনো নীলকর সাহেবদের সমাধি
আরো বড় পর্দায় নিজের জায়গা তৈরি করতে উদ্যত প্রীতি জানান,”যতই ব্যস্ততা বাড়বে, “পাপা কি পারি” চরিত্র মাঝে মধ্যেই ফিরে আসবে-দর্শকরা তাকে মিস করবেন না”।
যদিও সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্বে পরিচয় পাওয়া সহজ, বড় পর্দায় সফলতা অর্জন করার চ্যালেঞ্জিং তবুও প্রীতি সরকারের যাত্রা প্রমাণ করেছে, প্রতিভা থাকলে পথ খুঁজে পাওয়া যায়। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে টলিউড এই যাত্রা শুধু প্রীতির সঠিক সিদ্ধান্তেই নয়, বরং সময় ও সুযোগের সদ্ব্যবহারের প্রতিফলনও বটে।











