Winter Trip West Bengal Historical Temples: শীতের সন্ধ্যা মানেই ঘুরে বেড়ানোর আকাঙ্ক্ষা। যখন কনকনে ঠান্ডা তখন শহরের ভিড়ে ভিড় না করে রাজ্যের আনাচে কানাচে থাকা ঐতিহাসিক মন্দির গুলো ঘুরে দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা হতে পারে। কলকাতা থেকে মাত্র কিছুটা দূরেই বা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এমন বহু মন্দির রয়েছে যেগুলির ইতিহাস স্থাপত্য এবং লোককথা সমানভাবে রহস্যময় আকর্ষণীয়। এই শীতে যদি আপনি কোথাও ঘুরতে যাবেন ভাবেন তাহলে নিচের তিনটি মন্দির আপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
হংসেশ্বরী মন্দির বাঁশবেড়িয়া (হুগলি)
হুগলির বাস পেরিয়ে অবস্থিত হংসেশ্বরী মন্দিরটি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম অনন্য স্থাপত্য শৈলীর উদাহরণ। মন্দিরটি ১৭৯৯ সালে নির্মাণ শুরু হয় রাজার নৃসিংহ দেবের উদ্যোগে এবং শেষ পর্যন্ত এটি সম্পন্ন করেন তার স্ত্রী শংকরী দেবী। মন্দিরটি পাঁচ তলায় বিভক্ত এবং মোট ১৩ টি চূড়া রয়েছে যার শীর্ষে দেখা যায় পদ্মফুলের কুঁড়ি আকৃতির নকশা।

এখানে আরাধ্যদেবী হংসেশ্বরী হলেন মা কালীর এক রূপ, যিনি পদ্ম ফুলের মনির ওপর প্রতিষ্ঠিত। দেবীর মূর্তির গাত্রবর্ণ নীল এবং চার হাত থাকায় একটি দর্শনীয় ও মন্ত্রমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা দেয়। মূল মন্দিরের পাশেই অনন্ত বাসুদেবের একটি ছোট্ট মন্দিরও আছে যা টেরাকোটা সূক্ষ্ম কারুকার্যের জন্য দর্শকদের মন গ্রহণ করে।
- কিভাবে যাবেন?
হাওড়া কাটোয়া লোকাল ট্রেনে বাঁশবেড়িয়া স্টেশনে নেমে অথবা ট্যাক্সি করে সহজেই পৌঁছানো যায়। কলকাতা থেকে গাড়ি বা ট্রেনে ঘুরে আসাও খুব সুবিধা জনক।
শ্যামচাঁদ মন্দির শান্তিপুর
শান্তিপুরের নাম শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। চৈতন্য সন্ন্যাস গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো শান্তিপুরেই এসেছিলেন। এ শহর শুধু ধর্মীয় তীর্থস্থলই নয়, বরং এটি ইতিহাস ও স্থাপত্যের দিক থেকেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
1726 খ্রিস্টাব্দে ব্যবসায়ীর রামগোপাল খান চৌধুরী এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। এটি একটি ইটের আটচালা মন্দির যার কারুকাজে পৌরাণিক কাহিনীর দৃশ্য ফুটে ওঠে। মন্দিরটি প্রবেশপথ পাঁচ খিলান বিভক্ত, এবং মূল গর্ভগৃহে শ্রীকৃষ্ণ ও অষ্টধাতুর রাধামূর্তি রয়েছে।

এখানে প্রতি বছর রাস উৎসব উদযাপিত হয়, যখন ভক্ত ও পর্যটকদের ভিড় লেগে যায়। এই সাপোর্ট তো এবং পৌরাণিক ঐতিহ্য একসঙ্গে উপভোগ করতে শীতের একটি দিন ব্যয় করা নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হবে।
- কিভাবে যাবেন?
শিয়ালদহ থেকে লোকাল ট্রেনের শান্তিপুরে পৌঁছে অটো বা টোটো করে মন্দিরটির সহজেই দেখা যায়।
নাচিন্দা মায়ের মন্দির, কাঁথি
দীঘা বা মন্দারমনি ভ্রমণের পথে বা কাছাকাছি অবস্থিত নাতিন্ডা গ্রামের এই মন্দিরটি আধুনিক হলে উ স্থানীয় মানুষের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। জনশ্রুতি অনুযায়ী এক বৃদ্ধাশ শীতলা স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে দেবীর পূজা শুরু করেন, এরপরই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দিরটির ভক্তদের বিশ্বাস দেবী এখানে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে ঘুরে যান।

এখানে মা চন্ডী, শীতলা, কালী, রক্তাবতী চার রূপে পূজিত হয়ে থাকেন। লোকে বিশ্বাস করেন, যে কোন সমস্যার সমাধান পাওয়ার আশায় এখানে পুজো করলে মন শান্তি পায়।
- কিভাবে যাবেন?
কাঁথি পর্যন্ত ট্রেন বা বাসে আসতে পারেন, তারপর অটো বা টোটো করে পৌঁছাবেন নাচিন্দা মন্দিরে।
আরও পড়ুন: বাস্তুশাস্ত্র মতে ঘরে কোন ধরনের লক্ষ্মী প্রতিমা রাখলে আসবে সুখ- সমৃদ্ধি ও অর্থভাগ্য
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা এই মন্দিরগুলো শুধু ধর্মীয় নয়, স্থাপত্য ইতিহাসের দিক থেকেও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি শীতের দিনে প্রকৃতির মাঝেই কিছু শান্তি খুঁজে বের করতে চান, তাহলে এই মন্দির গুলো আপনার ভ্রমণ তালিকার অন্যতম গন্তব্য হওয়া উচিত।











