College Service Commission: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা বিভাগে এক বড় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কলেজ সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগ পর্ব সম্পন্ন হওয়ার পর এই পদক্ষেপটি এসেছে এবং এবারের লক্ষ্য উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রেও নিয়মিত শিক্ষক বাহিনী গঠন করা।
এই পরিকল্পনাই রাজ্যের সব কলেজ থেকে শূন্য পদ সহ তথ্য সংগ্রহ করা হবে যাতে পরিষ্কার ভাবে জানা যায় কোন বিষয়ে কতজন সহকারে অধ্যাপক দরকার কলেজ সার্ভিস কমিশন ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কলেজ গুলিকে এটি জানিয়ে দিয়েছে এবং ১লা ফেব্রুয়ারির মধ্যে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে তথ্য পাওয়ার পরে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
উল্লেখযোগ্য যে এটি বিধানসভা ভোটের আগে একটি বড় নিয়োগ প্রকল্প শিক্ষা ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ও কলেজ পর্যায়ে পড়াশোনার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।। রাজ্যে শিক্ষা দপ্তর আশা করছে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং কলেজের শিক্ষার্থীদের সুবিধা আরও বাড়বে।
কেন এই পদক্ষেপ?
কলেজ পর্যায়ে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকায় শিক্ষক বাহিনী অনেক পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। ২০২১ সালের পর থেকেই স্তরে নতুন কোন নিয়োগ হয়নি, যার ফলে প্রায় আড়াই হাজারের বেশি শূন্য পদ তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এই শূন্য পদগুলি পূরণ না হওয়ায় কলেজগুলো শ্রেণিকক্ষ এবং গবেষণা কর্মের চাপ দেখা দিয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে পড়াশোনার মানে প্রভাব পড়ছে বলে অভিভাবক ও শিক্ষক মহল একাধিকবার উল্লেখ করেছেন। ফলে এবার সমন্বিতভাবে বড় পরিসরে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
SET পরীক্ষার ভূমিকা
রাষ্ট্রপালের অধীনে রাজ্যের 27 তম স্টেট এলিজিবিলিটি টেস্ট এর আবেদন গ্রহণ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা সহকারী অধ্যাপকের পদে আবেদন করতে পারবেন। এ উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য আবেদনকারীকে স্নাতকোত্তর স্তরে ন্যূনতম ৫৫ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে।, আর কিছু বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রিধারীদেরও সুযোগ থাকবে।
এর মাধ্যমে নিয়োগ পেতে হলে প্রার্থীদের নির্ধারিত বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা দিতে হবে। যেখানে প্রতিটি বিষয়ে দুটি পত্র নেয়া হবে। উল্লেখ্য যে কোন ব্যক্তিরা পূর্বে এই SET উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াতে সুযোগ পাবেন এটি আগের বছরের পারফরমেন্স কেউ মূল্য দেবে।
সম্ভাব্য প্রভাব
শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন এটি কলেজ পর্যায়ের শিক্ষা কাঠামোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন শিক্ষক বাহিনী শিক্ষাদানের মান উন্নয়নের পাশাপাশি গবেষণা কাজ কেউ শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি এটি ছাত্রছাত্রীদের গবেষণামূলক জ্ঞানের বিকাশের সহায়ক হবে এবং কলেজে পাঠদানের মান আরো বাড়াবে।
আরও পড়ুন: কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ, বিভিন্ন বিভাগের আবেদন করতে পারবেন PhD প্রার্থীরা
তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সময় মত সম্পন্ন করা এবং সত্যতার সাথে পরিচালিত করা প্রয়োজন, যাতে যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ সঠিকভাবে দেওয়া যায়। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সংগঠন গুলোর অংশগ্রহণ এবং পর্যবেক্ষণ এই প্রক্রিয়াকে আরো সমন্বিত করবে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের পরে কলেজ স্তরে এই নতুন উদ্যোগ শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কলেজ সার্ভিস কমিশনের এই পরিকল্পনা যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয় তাহলে রাজ্যের উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন এবং কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।











