Wedding Without Gold: বর্তমানে দেশের স্বর্ণবাজারে দাম এমন হারে বেড়েছে যে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন বিতর্ক ও চিন্তার জন্ম দিয়েছে। রেকর্ড দামে স্বর্ণ ক্রয় হওয়ার কারণে বিশেষ করে বিয়ের মোড়ে স্বর্ণের প্রথা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আলোচনা চালু হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন সোনা ছাড়া কি এখন বিয়ের সম্ভব? এর প্রভাব শুধু বিয়ের খরচ নয়, সংস্কৃতি ঐতিহ্য ও আর্থিক বাস্তবতাকেও স্পর্শ করেছে।
গত কয়েক মাসেই দেশে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম অনবরত রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বর্তমানে দশ গ্রাম সোনার দাম রয়েছে ১,৬১,৫৫০ টাকা। এবং এই দাম বিয়ের বাজারের ব্যায়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এর প্রভাবে অনেক দম্পতি অবশ্যই ভাবছেন যে, কি স্বর্ণ ছাড়া বিয়ে করা এখন স্মার্ট বা বাস্তব সম্মত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
ভারতীয় সমাজে বরাবরই স্বর্ণের বিশেষ স্থান রয়েছে শাশুড়ি পক্ষ থেকে করে পক্ষকে উপহার দেওয়া স্বর্ণের অলংকারকে ধনী ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। চুরি হালকা গয়না থেকে শুরু করে মঙ্গলসূত্র সব কিছুতে স্বর্ণের উপস্থিতি স্বাভাবিক ও আবশ্যিক মনে করা হয়। তবে স্বর্ণের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঐতিহাসিক এই প্রথাটিকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
সামাজিক মাধ্যমে এক্স একটি পোস্টে এক ব্যক্তি জানিয়েছেন তার বন্ধু বিয়েতে সোনার না কিনে শুধুমাত্র আংটি ও মঙ্গলসূত্র পড়ে এ বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখবেন, কারণ স্বর্ণ কিনলে বিয়ের বাজেট প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। সেই দম্পতির মতে, সোনা কিনে খরচ না করে সেই অর্থ ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য সঞ্চয় করায় বুদ্ধিমানের কাজ। তারা বলছেন, সোনা ছাড়া বিয়ে করা স্বাভাবিক হতে হবে এতে কোন সমালোচনা করা উচিত নয়, নইলে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ঋণের বোঝা নিয়ে ডুবে যেতে পারে।”
এই পোস্টটি ঘিরে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। অনেকেই মত দিয়েছেন যে স্বর্ণের দাম শুধু মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর জন্য বড় বোঝার সৃষ্টি করছে বরং বিয়ের অন্যান্য খরচও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ এমন কি বলেছেন যে ঐতিহ্য বজায় রাখতেই তাদের জমি বা বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে খরচ যোগানোর জন্য।
অন্যদিকে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রভাব গয়না ব্যবসা ও পড়তে শুরু করেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছে কিছু ব্যবসায়ী। তাদের দাবি সোনা ও রুপোর দাম যেমন বেড়েছে, তাতে গয়না ব্যবসা যথাক্রমে কমে যেতে পারে। কারণ ক্রেতারা খরচ কমানোর জন্য অপেক্ষা ও বিকল্প সমাধান খোঁজে।
ভিন্ন একাংশের মতে, বিয়ের বাজেটে অন্য খরচ কমিয়ে স্বর্ণের বিনিয়োগ করা যুক্তিযুক্ত। একাংশের দৃষ্টিতে স্বর্ণের উপস্থিতি বিএকের সম্পূর্ণ করে এবং কোনে পক্ষের আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ও সাহায্য করে। তাদের বক্তব্য, বিয়েতে স্বর্ণের খরচ মোট বাজেটের অন্তত ৭০ শতাংশ হওয়া উচিত, কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদ একটি সম্পদ হিসেবেও বিবেচিত হয়।
কিছু পন্ডিত বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন যে এই বিতর্ক শুধু বিজ্ঞাপন বা সামাজিক মাধ্যমের আলোচনায় নয়, বরং এটি ভারতীয় সমাজের মার্জিত ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে একটি বড় দ্বন্দ্বকে সামনে এনেছে। স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ফলে শুধুমাত্র বিয়ের খরচ নয়, সামাজিক কাঠামো ও মূল্যবোধ সম্পর্কে ও প্রশ্ন ওঠা শুরু করেছে।
সার্বিকভাবে, সোনার দাম এখন গোটা দেশজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিণত হয়েছে। বিয়ে ও সম্পর্কগুলি শুধুমাত্র প্রেম বা সামাজিক বন্ধনের উৎস নয়, বরং এতে আর্থিক ঐতিহ্যগত দিকগুলিও জড়িত থাকে। এবং সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে এসব দিকে আলোচ্য। ফলে সোনা ছাড়া বিয়ে কি সম্ভব? এ প্রশ্নটি শুধু ব্যয় কমানোর দিক নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক সংকট হিসেবে সামনে এসেছে।










