Murshidabad Heritage Festival 2026: মুর্শিদাবাদের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখে ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এই জেলায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভাল। তিনদিন ব্যাপী উৎসবটি পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতার সুযোগ দেয়।যেখানে এক সময়ে নবাবীর রাজ্য ও বণিক সম্প্রদায়ের গৌরবময় ইতিহাস স্থাপত্য শৈলী খাদ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া যাবে।
মুর্শিদাবাদ একসময় বাংলা ও ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ সংস্কৃতি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি ছিল। প্রাচীন রাজপ্রাসাদ কারুকার্য শিল্প ও রেশম বয়ন ও বণিক সমাজ এই অঞ্চলের ঐতিহ্যের প্রাণ হিসেবে বিবেচিত। এই ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং ঐশ্বর্যকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলতেই ‘হেরিটেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি’ এই বার্ষিক উৎসবের আয়োজন করেছে।
উৎসবটি মূলত তিনটি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে-ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য দর্শন, সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্থানীয় খাবার ও খাবারের আয়োজন। হাজারদুয়ারি প্রাসাদ, কাটরা মসজিদ, নসিপুর রাজবাড়ী, তান্তি পাড়া এর মত জায়গাগুলো দর্শকদের জন্য বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। এসব স্থানে পর্যটকরা রাজপ্রাসাদের রাজকীয় জীবনের দিক নির্দেশনা, স্থাপত্যিক সৌন্দর্য ও বণিক সমাজের সংস্কৃতি আরো গভীরভাবে জানতে পারবেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| উৎসবের নাম | মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভাল ২০২৬ |
| তারিখ | ৬–৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| স্থান | মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ |
| আয়োজক | হেরিটেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি |
| মূল থিম | ইতিহাস, স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য |
| প্রধান দর্শনীয় স্থান | হাজারদুয়ারি প্রাসাদ, কাটরা মসজিদ, নসিপুর রাজবাড়ী, তান্তিপাড়া |
| বিশেষ আকর্ষণ | হেরিটেজ ওয়াক, গঙ্গা ঘাটের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা |
| সাংস্কৃতিক কার্যক্রম | সংগীতানুষ্ঠান, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, নৌকা ভ্রমণ |
| খাদ্য আয়োজন | ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় ও নবাবি রান্না |
| পর্যটন গুরুত্ব | স্থানীয় শিল্প, সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়ন |
| লক্ষ্য | ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পর্যটক আকর্ষণ |
ফেস্টিভালটি শুধু স্থাপত্য দর্শনে সীমাবদ্ধ নয়, এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কর্মশালা। গঙ্গা ঘাটের ধারে গৃহীত বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, সংগীতানুষ্ঠান, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দর্শকদের অনুভবকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলবে। রাতের আভায় প্রাচীন গঙ্গা আরতির দৃশ্য একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক মুহূর্ত সৃষ্টি করবে, যা দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলবে।
অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে হেরিটেজ ওয়াক, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা মুর্শিদাবাদ এর পুরাতন অলিগলি রাজবাড়ি মসজিদ ও অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থান গুলির মধ্যে দিয়ে পায়ে হেঁটে সময় ভ্রমণ করবেন। এই হেরিটেজ ওয়াকের মাধ্যমে মুর্শিদাবাদের ইতিহাস স্থাপত্য শিল্প ও স্থানীয় কাহতিগুলো সম্পর্কের শিক্ষা ও আনন্দ দু একটি ঐক্য মিলবে।
এছাড়াও, উৎসবের স্থানীয় খাদ্য ও শোহারওয়ালি রান্নার বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে, যা মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। এখানে পরিবেশন করা খাবারগুলো দারুন স্বাদ ও ঐতিহ্যবোধক সম্পর্ক গড়ে তোলে। অতিথিরা তা উপভোগ করতে পারবেন উৎসবের ব্যস্ত প্রেক্ষাপটে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, পর্যটন প্রতিনিধি, ও প্রশাসনিক কর্তারা ফেস্টিভালকে একটি বড় পর্যটন আকর্ষণে পরিণত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভাল শুধু ইতিহাসের সঙ্গে মিলিত হওয়ার প্ল্যাটফর্ম না, এটি স্থানীয় পর্যটন শিল্পকে নতুন ভাবে এগিয়ে নেওয়ার একটি উদ্যোগও বটে। জেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলিকে আধুনিক পর্যটক বন্ধু অবস্থায় তুলে ধরার ফলে ভবিষ্যতে মুর্শিদাবাদ আরো বেশি দর্শনার্থী আকৃষ্ট করতে পারবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বভারতীতে নতুন চাকরির সুযোগ | একাধিক শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগ | আবেদন শেষ ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে
এছাড়াও, উৎসবের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা স্থানীয় শিল্পী স্থানীয় শিল্প ও সংস্কৃতির অভিনব দিকগুলি কে তুলে ধরবে। এটা শুধু পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হবে না বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজেদের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রতি গর্ব ও সচেতনতা বাড়াবে।
মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভাল ২০২৬-এ এমন এক মুহূর্ত সৃষ্টি করবে যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি, শিল্প স্থাপত্য এবং পর্যটনের মিলনের পরিচিতি ও আনন্দ সব মিলেমিশে এক অনন্য অভিজ্ঞতা হবে। বিভিন্ন বয়স ও পটভূমির পর্যটকরা এই উৎসব এর মধ্যে দিয়ে একসময়ের ভ্রমণের অংশ নিতে পারবেন এবং বাংলা ও ভারতের ইতিহাসের এক অসাধারণ অধ্যায় কে উপলব্ধি করতে পারবেন।
Please Visit – trendypavilion.com









