Mahua Gangopadhyay Youtuber Controversy: সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে অনেকেই নিজেদের দৈনন্দিন জীবন তুলে ধরেন ইউটিউব বা ভ্লগের মাধ্যমে। সাধারণ জীবন যাপন, পরিবার, রান্না বান্না কিংবা ভ্রমণের নানান মুহূর্তে দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ায় ভ্লগারদের মূল কাজ। তবে কখনো কখনো সেই ব্যক্তিগত মুহূর্তই বড় বিতর্কের জন্ম দেয়। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায়, যিনি ‘প্রবাসে ঘরকন্না‘ নামে পরিচিত।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী এই বাঙালি ইউটিউবার দীর্ঘদিন ধরেই তার দৈনন্দিন জীবন প্রবাসের অভিজ্ঞতা এবং পারিবারিক নানান মুহূর্তের ভিডিওর মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। তার সহজ সরল কথা বলার ভঙ্গি এবং সংসার কেন্দ্রিক বিষয়বস্তু অনেক দর্শকের মন জয় করেছে। ফলে তার youtube চ্যানেলের দর্শক সংখ্যাও বেশ বড়।
কিন্তু সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই নেট দুনিয়ায় শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। জানা যায় কয়েকদিন আগে মহুয়া শাশুড়ি মা মারা গেছেন। এই দুঃসংবাদ পাওয়ার পর তিনি স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দ্রুত ভারতে হালিশহরে তার শ্বশুর বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে এই শোকের সময়ও তার ক্যামেরা বন্ধ থাকে নি। বিমানবন্দরে আসা থেকে শুরু করে বাড়িতে পৌঁছানো এবং শাশুড়ি শেষ যাত্রার বিভিন্ন মুহূর্ত সবকিছুই ভিডিও করে ভ্লগে তুলে ধরেন তিনি।
ভিডিওতে দেখাতে শাশুড়ির মৃত্যুর পর প্রচলিত রীতি মেনে লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে তিনি বাড়িতে প্রবেশ করে। এমনকি শাশুড়ির মরদেহের সামনেও ক্যামেরা চালু রেখে বিভিন্ন মুহূর্ত ধারণ করা হয়। এই দৃশ্য প্রকাশ্যেয়াতে অনেক দর্শক খুব প্রকাশ করেন তাদের মতে মৃত্যুর মতো ব্যক্তিগত ও শোকের মুহূর্তকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।
কমেন্ট বক্সে অনেকেই লিখেছেন, পরিবারের এমন কঠিন সময়ে মানুষের স্বাভাবিকভাবে শোক প্রকাশ করা উচিত, ক্যামেরার সামনে মুহূর্তগুলো তুলে ধরা নয়। কেউ কেউ আবার অভিযোগ করেছেন, শুধুমাত্র বেশি ভিউ এবং আয়ের জন্য এমন ভিডিও করা হয়েছে। একজন মন্তব্য করেন জীবনের সব ঘটনায় কনটেন্ট হতে পারেনা এবং ব্যক্তিগত মুহূর্তও একটি সীমা থাকা উচিত।
আরও পড়ুন: ১৭ মিনিট ‘মৃত’ থাকার পর ফিরে এসে স্বর্গ দেখার দাবি তরুণীর! Near Death Experience নিয়ে নতুন বিতর্ক
তবে সমালোচনার পাশাপাশি কিছু মানুষ মহুয়ার পক্ষেও কথা বলেছেন। তাদের মতে, তিনি তার জীবনের সুখ-দুঃখ সবই দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান বলে এই ভিডিও তৈরি করেছেন। মহুয়া নিজেও জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের অনুরোধেই তিনি এই মুহূর্তগুলো রেকর্ড করেছিলেন যাতে ভবিষ্যতের স্মৃতি হিসেবে তা সংরক্ষিত থাকে।। এমনকি তিনি দাবি করেছেন এই ভিডিও থেকে তিনি কোন আর্থিক লাভ করবেন না এবং ভ্লগটির মনিটাইজেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।।
সব মিলিয়ে ঘটনা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে একটি প্রশ্ন তুলেছে ব্যক্তিগত জীবনের সীমা কোথায় শেষ হয় এবং কনটেন্ট তৈরির জন্য কতটা ব্যক্তিগত মুহূর্ত প্রকাশ করা উচিত? এই বিতর্কের মধ্যেই প্রবাসে ঘরকন্না ইউটিউবার মহুয়া এখন নেট দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।









