Smoking and Memory Loss: বর্তমান সময়ের সুস্থ জীবন যাপনের আলোচনায় খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের গুরুত্ব যতটা উঠে আসে ততটাই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রায় অবহেলিত থেকে তাই তা হল ধূমপান। গবেষকরা বলছেন ধূমপান শুধু ফুসফুস বা হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে না, এটি মস্তিষ্কের ওপরে মারাত্মক প্রভাব ফেলে এবং ডিমেনশিয়া ও স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিগারেটের ধোঁয়ার থাকা হাজার হাজার রাসায়নিক পদার্থ শরীরে প্রবেশ করে রক্তনালীর ক্ষতি করে। ফলে মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহ কমে যায় এবং কোষগুলি পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। এই দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতি ধীরে ধীরে মতিষ্কের কোন ধ্বংস করে এবং স্মৃতিশক্তি মনোযোগ ও চিন্তা শক্তিকে দুর্বল করে তোলে।
ধূমপানের ফলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রবাহ বৃদ্ধি পায় যা মস্তিষ্কের কোষের ত্বরান্বিত করে। এই প্রক্রিয়া আলঝাইমার ও ভাস্কুলার ডিমেনসিয়ার মত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত ধূমপান করেন তাদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি।
আরো উদ্বেগ জনক বিষয়গুলো শুধু সক্রিয় ধূমপায়ী নয় পরোক্ষ ধূমপায়ী বা সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকও মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এই ধোয়া সংস্পর্শে থাকলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং জ্ঞানগত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মধ্য বয়সে অতিরিক্ত ধূমপান করলে পরবর্তী জীবনের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। কিছু গবেষণার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, শুধু তাই নয় প্রতিদিন বেশি সংখ্যক স্বীকার খেলে ঝুঁকি ও তত বেশি বাড়ে।একটি গবেষণায় দেখা গেছে দিনে কুড়িটি সিগারেট খেলে ডিমেনশিয়া ঝুঁকি প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
তবে আশার কথা হলো এই ঝুঁকি পুরোপুরি অপরিবর্তনীয় নয়। ধূমপান ত্যাগ করলে ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের শর্তের উন্নতি হতে পারে এবং ডিমেনশিয়া ঝুঁকিও কমবে আসতে পারে। দীর্ঘদিন ধূমপান না করলে একজন মানুষের ঝুঁকি প্রায় ধূমপান না করা ব্যক্তির সমান হতে পারে।
আরও পড়ুন: এপ্রিলের চতুর্থ সপ্তাহে লটারি ভাগ্য কোন কোন রাশির হাতে আসতে পারে টাকা ?
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ধূমপান ছাড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিকভাবে সক্রিয় থাকা মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ধূমপান শুধুমাত্র একটি অভ্যাস নয় তুই ধীরে ধীরে মতিষ্ক কে ক্ষতিগ্রস্ত করে ভবিষ্যতে স্মৃতিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি করে। তাই সুস্থ ও সচেতন জীবনের জন্য ধূমপান ত্যাগ করা এখনই সবথেকে জরুরী সিদ্ধান্ত হতে পারে।











