Ishan Kishan T20 World Cup Final: খেলাধুলার জগতে মানসিক দৃঢ়তা এবং দায়বদ্ধতা বোধের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। তবে কখনো কখনো ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককেও বাঁশ কাটিয়ে খেলোয়াররা দেশের জন্য মাঠে নামেন। ভারতীয় ক্রিকেটার ঈসান কিশনের ক্ষেত্রেও সেই একই ছবি দেখা গেল। পারিবারিক এক বড় দুর্ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘন্টা পরেই তিনি t20 বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের হয়ে মাঠে নামেন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদানও রাখেন।
জানা যায়, ফাইনালের ঠিক দুদিন আগে একটি ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ঈশান কিশানের তুতো দিদি এবং তার স্বামীর। আচমকাই দুঃসংবাদে ভেঙে পড়ে পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে স্বাভাবিক থাকা কঠিন। ঈশানের বাবা প্রণব পাণ্ডে শোকে মুষড়ে পড়েন। পরিবারের এই কঠিন সময়ও তিনি নিজেও বিশ্বকাপের ফাইনালে দেখতে মাঠে যেতে পারেননি।
খবর পাওয়ার পর ঈশান কিশন বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন। পরিবারের পাশে থাকা তাদের স্বাভাবিক দায়িত্ব ছিল। কিন্তু সামনে ছিল দেশের হয়ে বড় মন্ত্র বিশ্বকাপের ফাইনাল। শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি দলের সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং দেশের জন্য মাঠে নামেন। তার বাবা জানান, এমন পরিস্থিতিতে ঈশানের মন ভালো ছিল না। তবুও দায়িত্ববোধ থেকে সে খেলতে রাজি হয়।
ফাইনালের আগে অনুশীলনের সময় ঈশানকে বেশ মনমরা দেখাচ্ছিল বলে জানা যায়। সাধারণত অনুশীলনের সময় সতীর্থদের সঙ্গে হাসি ঠাট্টায় মেতে থাকেন তিনি। ব্যাটিং অনুশীলন শেষ হওয়ার পর দলের কয়েকজন ক্রিকেটার এসে তার সঙ্গে কথা বলেন এবং মানসিকভাবে শক্ত থাকার পরামর্শ দেন।
এই ব্যক্তিগত শোকে মাঠে প্রভাব ফেলতে দেয়নি তরুণ এই ব্যাটার। ফাইনালে তিন নম্বরে ব্যাক করতে নেমে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেন তিনি। মাত্র ২৫ বলেই করেন ৫৪ রান। তার এই ইনিংসে ছিল চার চারটি এবং চারটি ছক্কা। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই ঝড়ো ইনিংস ভারতের স্কোরকে দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।
শুধু ব্যাট হাতে নয়, ফিল্ডিংয়ে নজর কেড়েছেন ঈশান। ম্যাচে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ধরেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বেতর টিম সেইফার্ট, রাচীন রবীন্দ্র, এবং ড্যারিল মিচেলের ক্যাচ ধরেন তিনি। এই তিনটি ক্যাচ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।
আরও পড়ুন: পেটের মেদ কমাতে ও কোমরের ব্যথা দূর করতে কার্যকর যোগাসন :ব্যাঘ্রাসন'(Tiger Pose)
বিশ্বকাপ চলাকালীন ভারতীয় দলের আরেক ক্রিকেটার রিঙ্কু সিংহের পরিবারও শোকের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তার বাবার মৃত্যু হয় প্রতিযোগিতা চলাকালীনন। শেষকৃত্য সম্পন্ন করে তিনি আবার দলের সঙ্গে যোগ দেন। ঘটনাগুলো দেখিয়ে দেয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের জন্য খেলতে গিয়ে অনেক সময় খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত আবেগকে কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
সব মিলিয়ে ঈশান কিশানের এই ঘটনা শুধু ক্রিকেটের নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এক অনন্য উদাহরণ। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককে সঙ্গী করেও তিনি দেশের জন্য নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই মানসিক বিরতা এবং পেশাদারিত্ব ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।









