West Asia Conflict Pushes Oil Prices Near 100 Doller: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতেরদের এই বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও।
সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত তীব্র হবার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। কিছু ক্ষেত্রে দাম ব্রেন্ট ক্রুড এ্য দাম ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। যা গত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সরবরাহ ব্যাহত হবার পরিস্থিতি আরো দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে তেলের দাম আরো বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতির অন্যতম বড় কারণ পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ “স্ট্রেইট অফ হরমুজ” বিশ্ব উৎপাদিত মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০% এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে এই রূপের জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক তেল ও গ্যাস অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনাগার কাতার গ্যাস টার্মিনাল এবং ইরাকের কিছু তেল ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রপ্তানি কারক। তাই এই অঞ্চলের সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে। ইতিমধ্যেই অনেক দেশ বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির পথ খুঁজতে শুরু করেছে। যাতে সরবরাহ সংকট দেখা দিলে তা সামাল দেওয়া যায়।
শুধু তেল বা গ্যাস নয়, এই সংখ্যা তে প্রভাব পড়ছে অন্যান্য পণ্যের বাজারে জ্বালানি সংকটের অবস্থায় সার, অ্যালুমিনিয়াম এবং প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য সরবরাহ সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। কারন এই শিল্পগুলির উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুন: রাইটসে চাকরি সুযোগ, বিভিন্ন বিভাগে কনসালটেন্ট নিয়োগ আবেদন করবেন কিভাবে
এদিকে এশিয়ার বড় তেল আমদানি কারক দেশগুলির মধ্যে চিন,ভারত জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বিশেষ ভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ এশিয়া থেকেই তারা বিপুল পরিমাণ তেল ও এল এন জি আমদানি করে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এসব দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর চাপ বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরো অস্থির হতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি অনেক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ধাক্কা খেতে পারে।
সবমিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক সংকট নয় বরং ধীরে ধীরে বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এখন বিশ্বের নজর পরিস্থিতি কত দ্রুত শান্ত হয় এবং জ্বালানি সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হয় তার দিকে।








