Iran Israel Conflict Gold Price India 2 Lakh Per 10 Gm: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। বিশেষ করে শোনা ওর উপর দামে বড়সড় ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতেই এই সংঘাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতে সোনার দাম ভবিষ্যতে প্রতি ১০ গ্রাম প্রায় 2 লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছবে।
বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়লেই সাধারণত বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝোঁকে। সোনা সেই নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম। ফলে যুদ্ধ বা ভোর রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে সোনার চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়, যার প্রভাব পরে বাজার দামে।
যুদ্ধের প্রভাব পড়তে সোনা ও রুপোর বাজারে
সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বাজারের পরিবর্তে সোনা,রুপো বা সরকারি বন্ডের মতো নিরাপদ সম্পদে অর্থ বিনিয়োগ করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘত্থায়ী হলে বাজারে ঝুঁকি বাড়বে। তখন সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরো বাড়তে পারে। এর ফলে সোনার দাম আরো দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতিমধ্যেই বাড়ছে সোনার দাম
ভারতের বাজারে ইতিমধ্যে সোনার দাম বড়সড় বৃদ্ধির লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অল ইন্ডিয়া সারাফা অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দিল্লির বাজারে সোনার দাম প্রতি 10 গ্রামে প্রায়ই ১,৬৪,৭০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এমনকি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, শীঘ্রই তা ১.৭৫ লক্ষ্য টাকা ছুঁতে পারে।
শুধু সোনা নয়, রুপোর দামও দ্রুত বাড়ছে। বাজারে অনুমান করা হচ্ছে, পরিস্থিতি একই থাকলে রুপোর দাম প্রতি কেজিতে প্রায় তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
কেন বাড়ছে সোনার দাম?
অর্থনীতিবিদদের মতে আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তেজনা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকে। সোনা সেই তালিকায় প্রথমদিকে থাকে।
বিশেষ করে তিনটি বিষয় সোনার দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলে-
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি
- মার্কিন ডলারের ওঠানামা
- আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারের প্রবণতা
এই তিনটি বিষয় যদি শোনার পক্ষে থাকে, তাহলে দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
সামনে কি হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে সোনার বাজার অনেকটাই নির্ভর করবে মধ্যপ্রাস্তের পরিস্থিতির ওপর। যদি সংঘাত আরো তীব্র হয়, তাহলে সোনার দাম নতুন রেকর্ড তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, যদি কূটনৈতিক সমাধান হয় এবং উত্তেজনা কমে যায়, তাহলে দামের বৃদ্ধি কিছুটা থামতে পারে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মিনিও কারীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়তেই পারে। সেই কারণেই ভবিষ্যতে প্রতি ১০ গ্রামে সোনার দাম দু লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সংক্ষেপে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু রাজনীতি বা নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে। তার অন্যতম বড় উদাহরণ হল সোনা ওর উপর বাজারে এই অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি।









