Long Fever with Stomach Problems: অনেক সময় দেখা যায় জ্বর কয়েকদিন সপ্তাহ ধরে কমছে না, তার সঙ্গে রয়েছে পেটের সমস্যা। যেমন ডায়রিয়া, বমি, পেট ব্যথা বা অরুচি। সাধারণ ভাইরাল জ্বরের ক্ষেত্রে এই উপসর্গ গুলি কয়েকদিনের মধ্যেই কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু যদি এই উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে কারণ খোঁজা জরুরী।
কেন হয় দীর্ঘদিন জ্বর ও পেটের সমস্যা?
চিকিৎসকের মতে, এই ধরনের সমস্যা সাধারণত গ্যাস্ট্রো ইন্টেস্টাইনাল বা পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমনের সঙ্গে যুক্ত। ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবীর সংক্রমণ পেট ও অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি করে। যার ফলে জ্বর ডায়রিয়া বমি বা পেটে ব্যথা একসঙ্গে দেখা দেয়।
সবচেয়ে সাধারণ কারণ গুলোর মধ্যে রয়েছে-
- ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস
- খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রম
- দূষিত জলবা খাবার গ্রহণ
- পরজীবী সংক্রমণ
এই ধরনের সংক্রমনে সাধারণত ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যে উপসর্গ কমে যায়, তবে কখনো কখনো তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে।
এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন জ্বরের পেছনে থাকতে পারে
- লিভার বা অন্তরের গুরুতর রোগ
- প্রদাহ জনিত অন্ত্রের রোগ
- টিউমার বা অন্য জটিল অসুখ
একটি গবেষণায় দেখা গেছে অজানা কারণে দীর্ঘত্থায়ী জ্বরের অনেক ক্ষেত্রেই পরিপাকতন্ত্রের রোগ দায়ী হতে পারে।
কি কি লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
উপসর্গগুলি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী-
- তিনদিনের বেশি জ্বর
- বারবার বমি বা ডায়রিয়া
- মলে রক্ত
- শরীরে পানি শূন্যতা
- তীব্র পেট ব্যথা
এসব লক্ষণ গুরুতর সংক্রমণ বা জটিল রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
কিভাবে মিলবে উপশম?
এই সমস্যা চিকিৎসা মূলত কারণভিত্তিক তবে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব-
পর্যাপ্ত জল পান করুন-ডায়রিয়া বা বনের কারণে শরীর থেকে জল ও লবণ বেরিয়ে যায়। তাই ওআরএস ডাবের জল বা স্যুপ খাওয়া খুব জরুরী।
হালকা খাবার খান
ভাত, খিচুড়ি, কলা টোস্ট এর মত সহজপাচ্য খাবার পেটের ওপর চাপ কম পড়ে।
বিশ্রাম নিন
শরীরকে সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সময় দিন । পর্যাপ্ত ঘুম দ্রুত আরোগ্য হতে সাহায্য করে
কিভাবে প্রতিরোধ করবেন?
- সব সময় পরিষ্কার জল পান করুন
- খাবার ভালোভাবে রান্না করুন
- নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন
- বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন
দীর্ঘদিন জ্বরের সঙ্গে পেটের সমস্যা হলে তা সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। অনেক সময় এর পেছনে গুরুতর সংক্রমণ বা অন্য কোন রোগ লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই সময়মতো সঠিক চিকিৎসা এবং সত্যানুতাই দুই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।











