Container Ginger Farming: আদা, আমাদের রান্না ও স্বার্থে এক বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছে। আদা দিয়ে চা বানিয়ে ঠান্ডা, কাশি ও গলা ব্যথা দূর করা যায়, বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন পদের স্বাদ ও গুণ বাড়ায়। এত উপকারী সবজি বাজার থেকে কেনার বদলে আপনার ঘরের বারান্দার টবে সহজেই ফলানো সম্ভব। নিচে আমরা ধাপে ধাপে আদা চাষের পদ্ধতি ও যত্ন সম্পর্কে জানাবো যাতে আপনি সফলভাবে ফলন পান।
প্রথমেই আদা চাষের জন্য ভালো জাতের কন্দ নির্বাচন করা জরুরী। নার্সারি থেকে সরাসরি ছোট আদা গাছ কিনতে পারেন বা বাজার থেকে কিছুটা শুকিয়ে যাওয়া আধা-খন্দ বেছে নিন। তাজা আদা থেকে আলাদা করে কাটা ভালো হয় কারণ খুব তাজা কন্দ অঙ্কুরোদগমে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কন্দকে তিন ইঞ্চি করে টুকরো করে নিন এবং দু থেকে তিন দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখলে অঙ্কুরোদগম শুরু হবে।
যখন গন্ধ থেকে কচি আজ কেটে বের হতে শুরু করে, তখন সেটিকে প্রতিটি টুকরোকে তবে লাগানোর উপযোগী সময় ধরে নিন। টব অবশ্যই যথেষ্ট গভীর এবং চওড়া হওয়া উচিত, যাতে কন্দ গুলো সহজে ছড়িয়ে পড়ে। তবে নিচে প্রয়োজনীয় জল নিষ্কাশনের জন্য ছিদ্র রাখুন যাতে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যায়। এবং মাটি জমে থাকে না। আদা গাছ সাধারণত নিচে মাটির মাঝে কন্দ তৈরি করে। তাই ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো থাকা আবশ্যক।
মাটির প্রস্তুতি হল সফল আদা গাছের চাষের মূল ভিত্তি আবার জন্য ভারী মাটির বদলে ঝুরঝুরে, ভেস্টানোর মতো পুষ্টিকর মাটি দরকার। ৮০ শতাংশ বাগানের মাটি ৩০ শতাংশ ভার্মি কম্পোস্ট ২০% কোকোপিট ও ১০ শতাংশ বালি মিশিয়ে একটি সুন্দর মিশ্রণ তৈরি করতে পারেন। এই মিশ্রনে পানি ধরে থাকে কিন্তু জল জমে না। ধার্মিক কম্পোস্ট ও কোকোপিট মাটির পুষ্টি ও সঞ্চালন ক্ষমতা বাড়ায়, ফলে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
টবের মাটিতে দু থেকে তিন ইঞ্চি গভীর অঙ্কুরিত কন্দগুলি চোখের দিকটি উপরের দিকে রেখে পুঁতে দিন। মাটিটি খুব হালকাভাবে চাপিয়ে দিন এবং ওপর থেকে অল্প জল দিন যাতে মাকে ভিজে যায় কিন্তু জল জমে না। প্রথমদিকে সরাসরি তীব্র রোদ থেকে দূরে হালকা ছায়ামুক্ত জায়গায় টবটি রাখাই ভালো। কয়েক সপ্তাহ পরে গাছের সাফ কঠিন কচি বের হতে শুরু করবে।
গাছ বড় হওয়া পর্যায়ে নিয়মিত জল দেওয়া দরকার। গরমের দিনে প্রতিদিন সকালে জল দিন কিন্তু বর্ষাই তবে জল জমে না তা নিশ্চিত করুন। শীতে মাটি যদি শুকিয়ে যায় তখন অল্প জল দেওয়া প্রয়োজন। মাটির আর্দ্রতা বজায় রেখে জল দিন, কারণ অত্যধিক বা অপ্রতুল জল দুই গাছের বৃদ্ধিতে সমস্যা করতে পারে।
টবে গাছ বড় হলে মাঝে মাঝে জৈব সার ব্যবহার করলে ফলন আরো উন্নত হবে। ভার্মি কম্পোস্ট বা অন্য জৈব সার যে কোন সময় ব্যবহার করতে পারেন যাতে মাটির পুষ্টি বজায় থাকে এবং গাছ সুস্থ থাকে। ৮ ,১০ মাসের মধ্যেই মাটির নিচে আবার কন্দগুলো পুরো গজে উঠে আসে। যখন পাতা সরষে শুকিয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায়, তখন বুঝতে হবে আদা কাটার জন্য তৈরি।
শেষে কন্দ তুললে মাটির আদ্রতা কমাতে তা কিছুক্ষণ শুকিয়ে রাখুন। এরপর তা রান্না বা অন্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। নিজের পরিশ্রমে বাড়িতে চাষ করা টাটকা আদা রান্নার স্বাদ ও পুষ্টি উভয়ই বাড়িয়ে দেয় এবং বাজার থেকে প্রতিদিন কিনে আনার ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
এই কৌশল গুলি অনুসরণ করলে আপনার বারান্দা তবে সুস্থ ও পুষ্টিকর আদা চাষ হয়। বর্ষা, গ্রীষ্ম বা শীত ঠিক যত্ন নিলে বছর জুড়ে ঘরে আদা চাষ আপনার পক্ষে সম্ভব।











