Gallbladder Stone Symptoms: অনেকেই খাবার খাওয়ার ঠিক পরে পেটে ব্যথা অনুভব করেন এবং যা হজমের সমস্যা, গ্যাস ও অম্লতা ভেবে উপেক্ষা করে থাকেন। কিন্তু যদি এই ব্যথা নিয়মিত হয়, তাৎক্ষণিক বমি ভাব থাকে বা পেটের ব্যথা তীব্রতা বাড়ে, তাহলে সেটা গল ব্লাডারে পাথর থাকার কারণে হতে পারে। এটি সাধারন, কিন্তু সময় মতো সনাক্ত না করলে বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে।
গলব্লাডার একটি ছোট অঙ্গ যা লিভারের নিচে ডানদিকে থাকে এবং পিত্তরস ক্ষরণ করে থাকে। খাবার বিশেষত ফ্যাট যুক্ত খাবার খাওয়ার সময় গলব্লাডারে পিত্ত রসকে অন্ত্রের দিকে ছাড়ে যা খাবার হজমের সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত কোলেস্টরল ও বিলিরুবিন বা পিত্ত ঠিকভাবে খালি না হয় পাথর তৈরি হতে পারে।
গলব্লাডার স্টোনের কারণ স্টোন বা পিত্তথলির পাথর সাধারণত নিচের কারণ গুলির জন্য তৈরি হয়-
- অতিরিক্ত কোলেস্টেরল থাকার কারণে পিত্ত কঠিন হয়ে পাথরের রুপান্তর হয়
- পিত্তে বেশি বিলিরুবিন জমা হওয়া
- গলব্লাডার ঠিকমতো খালি না হওয়া বা সংক্রমণ
এছাড়া অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, ফ্যাট তেল যুক্ত খাবার বেশি খাওয়া, স্থূলতার, ডায়াবেটিস ও হরমোনাল সমস্যা ও ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রধান উপসর্গগুলো
গলস্টোন সবসময় ব্যথা দেয় না, অনেক সময় পাথর পাওয়া গেলেও কোন উপসর্গ থাকে না। কিন্তু যখন পাথরটি পিত্ত নালিতে আটকে যায় তখন উপসর্গগুলো স্পষ্ট দেখা দেয় সাধারণ উপসর্গ হলো-
- খাবার খাওয়ার পর ব্যথা-বিশেষত ফ্যাট যুক্ত খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে
- বমি বমি ভাব
- অজানা ক্লান্তি বা বদহজম
- হুইল বা রং আলট্রা পরিণত হওয়া
- পেটের ডানদিকে ওপরের ভাগে তীব্র ও ক্র্যাম্প জাতীয় ব্যথা
এই ব্যথা কখনো কখনো অন্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেমন মূল মাঝখানের পেট বা ডান হাতের কাঁধে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
স্থায়ী বা তীব্র ব্যথা, জন্ডিস, জ্বর ঠান্ডা লাগা বা বমি বমি ভাব থাকলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরী। কারণ পাথর যদি দীর্ঘ সময় পিত্তনালীতে আটকে থাকে, তখন গলব্লাডার সংক্রমণ বা প্যানক্রিয়াটিস এর মত জটিলতা হতে পারে।
চিকিৎসা পদ্ধতি
চিকিৎসক সাধারণত পেটের আল্ট্রা সাউন্ড স্ক্যান এর মাধ্যমে পাথরের উপস্থিতি অনুধাবন করেন। এর ভিত্তিতে চিকিৎসা নির্ধারণ হয় কেস অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতির ভিন্ন হতে পারে।
- সার্জারি- সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতি হলো গলব্লাডার সরিয়ে দেওয়া এটি ল্যাপরোস্কপিক পদ্ধতিতে করা হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সফল হয়।
- ঔষধ-কিছু ক্ষেত্রে পাথর দ্রবীভূত করার ঔষধ ব্যবহৃত হতে পারে যদিও এটি সব সময় কার্যকর হয় না।
গলব্লা দা সরিয়ে দিলেও আপনি স্বাভাবিকভাবে খেতে পারেন শুধু ক্ষতিকর অতিরিক্ত ফ্যাট কমিয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা উচিত।
আরও পড়ুন: শীতের রোদে বসে কালো ছোপ পড়ে যাচ্ছে, এই তিনটি উপকরণে তৈরি করুন হোম মেড প্যাক
প্রতিরোধ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন
- নিয়মিত, সুষম খাদ্য
- পর্যাপ্ত পানি পান
- অতিরিক্ত তেল ফ্যাট যুক্ত খাবার কম খাওয়া
- নিয়মিত ব্যায়াম
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
উভস গুলো গোলস্টোন হওয়া থেকে অনেকটা রক্ষা করতে পারে এবং ডাইজেস্টিভ সিস্টেম সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
খাবার খাওয়ার পর যদি ব্যথা বমি ভাব এবং হজমের সমস্যা নিয়মিত অনুভব করেন, তাহলে সেটা শুধুই হজমের সমস্যা নয় পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সময় মত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিন এবং স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন শুরু করুন।
Please Visit – trendypavilion.com











