Home Loans: নিজের একটি বাড়ি এর স্বপ্ন প্রায় সকলের মনে বাসা বাঁধে। সে স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে বহু মানুষ গৃহঋণের দ্বারস্ত হন। শুরুতে মাসিক কৃত্তিবা ইএমআই দিতে খুব একটা সমস্যা হয় না। কিন্তু সময় যত এগোয়,ততোই সুদের চাপ বাড়ে, আয়ের অনিশ্চয়তা দেখা দেয় এবং দৈনন্দিন খরচের সঙ্গে তাল মিলাতে গিয়ে গৃহঋণ একসময় বড় বোঝায় পরিণত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে এই দিন যেন ধীরে ধীরে ‘ফাঁদ’ এর রূপ নেয়। তবে একটু সচেতন পরিকল্পনা ও সঠিক সিদ্ধান্তে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা একেবারেই অসম্ভব নয়।
কিভাবে গৃহঋণের ফাঁদে পড়েন মানুষ?
অধিকাংশ ক্ষেত্রে গৃহঋণ নেওয়ার সময় মানুষ ভবিষ্যতের আর্থিক ঝুঁকির কথা ঠিক ভাবে ভাবেন না। চাকরি বদল, বেতন কমে যাওয়া, ব্যবসায়ী লোকসান, হঠাৎ চিকিৎসার বড় খরচ এ সমস্ত অনিশ্চয়তা পরিশোধে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আবার অনেকেই দীর্ঘ মেয়াদের ঋণ নেন এই ভেবে যে মাসিক কিস্তি কম হবে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদ মানে সুদের অংক অনেক গুণ বেড়ে যায়, যা ভবিষ্যতে চাপ আরো বাড়ায়।
ঋণের চাপ কমাতে প্রথম পদক্ষেপ কি?
গৃহঋণের বোঝা কমাতে প্রথমে প্রয়োজন নিজের আর্থিক অবস্থার বাস্তব মূল্যায়ন। মাসিক আয়,নিয়মিত খরচ, সঞ্চয় এবং ঋণের দায়ী সব কিছুর পরিষ্কার হিসেবে রাখতে হবে। সাধারণভাবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইএমআই যেন মোট মাসিক আয়ের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। যদি দেখা যায় ইএমআই তার বেশি হয়ে যাচ্ছে তাহলে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলা অত্যন্ত জরুরী।
লোন রিস্ট্রাকচারিং বা রিফাইন্যান্সিং কতটা কার্যকর?
বর্তমানে অনেক ব্যাংক লোন রিস্ট্রাকচারিংয়ের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে ঋণের মেয়াদ কিছুটা বাড়িয়ে মাসিক কিস্তির অংক কমানো যায়। যদিও এতে মোট সুদের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, তবুও তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ কমাতে এটি কার্যকর একটি উপায়। এছাড়াও বাজারে যদি কম সুদের হোম লোন পাওয়া যায়, তাহলে অন্য ব্যাংকে ঋণ স্থানান্তর বাড়ি রিফাইনান্সিং করাও বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত হতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে সুদের খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
প্রি পেমেন্টে মিলতে পারে বড় স্বস্তি
যখনই হাতে অতিরিক্ত টাকা আসে যেমন বোনাস, ইন্সেন্টিভ, জমি বা সম্পত্তি বিক্রির টাকা তখন তার একটি অংশ দিয়ে হোম লোনের প্রে পেমেন্ট করলে বড় সুবিধা পাওয়া যায়। এতে মূল ঋণের অংক কমে যায় এবং ভবিষ্যতে সুদের চাপ ও উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পায়। বিশেষ করে ঋণের প্রথম দিকেই প্রি পেমেন্ট করলে তার সুফল সবথেকে বেশি মেলে।
আরও পড়ুন: শীতে ছোলা ভাজা খাচ্ছেন? জানুন ভেজাল চেনার সহজ উপায় ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি
সঞ্চয় ও খরচে আনুন শৃঙ্খলা
গৃহঋণ থেকে মুক্তির পথে সব থেকে বড় অস্ত্র হলো আর্থিক শৃঙ্খলা। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো, বিলাসিতার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং নিয়মিত সঞ্চয় এর অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে স্বল্প মেয়াদী বিনিয়োগ ভেঙে ইএমআই মেটানো যেতে পারে, যাতে ঋণ খেলাপির ঝুঁকি তৈরি না হয় এবং ক্রেডিট স্কোর অখনও থাকে।
গৃহঋণ নিজে কোন শত্রু নয়। কিন্তু পরিকল্পনার অভাব ও অসচেতন সিদ্ধান্ত একে বড় আর্থিক বোঝায় পরিণত করতে পারে। সঠিক সময়ে পদক্ষেপ, সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত এবং আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমিক গৃহঋণের ফাঁদ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আজই উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতের আর্থিক চাপ অনেকটাই হালকা করা যাবে।











