Laptop Scanning Rules at The Airport: বিমানবন্দরে যাতায়াতের সময় প্রায় প্রত্যেক যাত্রীকে একটি নিয়মের মুখোমুখি হতে হয়। নিরাপত্তা তল্লাশির সময় ব্যাগ থেকে ল্যাপটপ আলাদা করে বের করে স্ক্যানারে দিতে হবে। বিশেষ করে তখন লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তখন প্রশ্ন ওঠে, কেন শুধু বিমানবন্দরে ল্যাপটপের ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি? এর পেছনে কি শুধুই নিয়ম, না রয়েছে কোন গভীর নিরাপত্তার কারণ। আসলে এর পথে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি জানলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে।
প্রথম এবং সব থেকে বড় কারণ হলো এক্স-রে স্ক্যানিংয়ের স্বচ্ছতা। ল্যাপটপের ভেতরে থাকে বড় লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। ঘন সার্কিট বোর্ডে ও ধাতব অংশ। এই উপাদান গুলি এক্সরে মেশিনে খুব ঘন ও গারো ছাপ তৈরি করে। ফলে ল্যাপটপের ভেতরে ব্যাগের ভেতরে থাকলে তার নিচে বা পাশে থাকা অন্য জিনিস স্পষ্ট ভাবে দেখা যায় না। এতে নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য সন্দেহ জনক বস্তু সনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। ল্যাপটপ আলাদা করে ট্রে তে রাখলে ব্যাগ ও ল্যাপটপ দুটোই পরিষ্কার ভাবে স্ক্যান করা সম্ভব।
দ্বিতীয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ব্যাটারি সংক্রান্ত ঝুঁকি। আধুনিক ল্যাপটপে ব্যবহৃত লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে এই ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে এলে আগুন লাগার আশঙ্কা থাকে। বিমানের মত সংবেদনশীল পরিবেশে এমন ঝুঁকি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আলাদা ভাবে স্ক্যান করার মাধ্যমে ব্যাটারির অবস্থান ও গঠন ভালো ভাবে পরীক্ষা করা হয়। যাতে কোন অস্বাভাবিকতা থাকলে তা আগে ভাগেই ধরা পড়ে।
তৃতীয়, কারণটি নিরাপত্তা জনিত অপরাধ প্রতিরোধের সঙ্গে যুক্ত। অতীতে একাধিক ঘটনাই দেখা গিয়েছে ল্যাপটপ বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ভেতর লুকিয়ে নিষিদ্ধ বস্তু বহন করার চেষ্টা হয়েছে। ব্যাগের ভিতরে থাকা অবস্থায় ল্যাপটপের আড়ালে সেইসব জিনিস সহজেই চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু, ল্যাপটপ আলাদা করে স্ক্যান করলে তা অভ্যন্তরীণ গঠন স্পষ্ট দেখা যায় এবং কোন সন্দেহজনক বস্তু লুকিয়ে রাখা থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: মাধ্যমিক 2026 ইংরেজি পরীক্ষা ভয়ের কোন কারণ নেই! সহজ পরিকল্পনা ও কৌশলে নিশ্চিন্তে ভালো নম্বর আসবে
চতুর্থ, এই নিয়ম আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা নীতির অংশ।বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল নিরাপদ রাখতে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করেছে। সেই নির্দেশিকা গুলির মধ্যে অন্যতম হলো বড় ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস আলাদা করে স্ক্যান করা।প্রায় সব দেশে এই নিয়ম মেনে চলে যাতে নিরাপত্তার মান সর্বত্র এক থাকে।
সবশেষে বলা যায়, ল্যাপটপ আলাদা করে স্ক্যান করার নিয়মটি যাত্রীদের হয়রানি করার জন্য নয়, বরং পুরো বিমানযাত্রাকে নিরাপদ রাখার জন্য এই ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে উন্নত 3D সিটি স্ক্যানিং প্রযুক্তি চালু হলে হয়তো এই নিয়ম কিছুটা শিথিল হতে পারে। তবে আপাতত এই ছোট্ট অসুবিধায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানোর অন্যতম ভরসা। তাই পরের বার বিমানবন্দরে ল্যাপটপ বের করতে বলা হলে মনে রাখবেন এটা আপনার এবং সকল যাত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থে।
Please Visit – trendypavilion.com











