Negua Gram Bankim Chandra Smriti: নির্জন উপকূলের শান্ত মনোরম এক গ্রাম, নেগুয়া। দীঘা যাওয়ার পথে এগরা রামনগর রাস্তায় চোখে পড়ে এই গ্রামটি। কিন্তু কেবল পথ চলা নয় এখানে লুকিয়ে রয়েছে বাংলার সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এক সমাজে ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস, যা আজও গ্রামবাসীর মুখে মুখে বয়ে চলে।
দক্ষিণ বিনোদন কিংবা ভ্রমণের পরিকল্পনা দীঘার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে নেগুয়া গ্রামের এক ধাপে হাজির হয় ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এক অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার। একসময় প্রশাসনিক কর্মস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল এখানে বঙ্কিমচন্দ্র ১৮৬০ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারিতে এই নেগুয়া ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে আসে। সেই সময় মাটির রাস্তায় উটের গাড়ি ও পালকিতে সে যাত্রা পথ ছিল, আর কাজের ফাঁকে তিনি মানসিক বিশ্রতির জন্য সমুদ্রের তীরে দ্রুত যেতেন।
গ্রামের পড়াশোনা চিন্তার প্রেক্ষাপটে বঙ্কিমচন্দ্রের ছাত্র জীবন উঁকি দেয়। তিনি ১৮৪৪-৪৮ সালের মধ্যে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে অধ্যায়ন করেছিলেন। এরপর প্রশাসনিক চাকরিতে যুক্ত হয়ে কার্যকর ভাবে নেগুয়াতে কাজ শুরু করেন। শুধু সামরিক নয়, সাংস্কৃতিকভাবে ও গ্রামটি তার চিন্তা ও সৃষ্টিকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
উল্লেখযোগ্য হলো এখানে একাধিক রহস্যময় ঘটনা। গ্রাম বৃন্দ আজও সেই মুহূর্তগুলি স্মৃতিতে ধরে রেখেছে। এক সময় তার পিছু ফিরে ঘোরে এক সন্ন্যাসী কাপালিক, গভীর নিশীথে দরজায় করাঘাত, দীর্ঘ দেহে এক সন্ন্যাসীর আবির্ভাব এমনই এক ঘটনা গ্রামে কেবল কথিত। সেই সব অভিজ্ঞতা থেকে তার বিখ্যাত রচনায় মিশেছে এক বিশেষ আবহ যেমন 1866 সালের দিকে লেখা হয় তার কালজয়ী উপন্যাস কপালকুণ্ডলা।
আজও নেগুয়া গ্রাম বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতির পাহারাদার। গ্রামের বিভিন্ন স্থানে স্কুল, পঞ্চায়েত, কার্যালয়, সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ সবই তাঁর নামে ধরা পড়ে। প্রতিবছর তার স্মরণে গ্রামে মেলা হয়, গল্প হয় বঙ্কিমের পথ চলায়, সন্ন্যাসী ছায়ায়, শুভ্র বসনা আবির্ভাবে। রবীন্দ্র গর্বের সঙ্গে বলেন,“এই পথ দিয়েই হাঁটতেন বঙ্কিম”।
ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এখানে একটি শান্ত বিরতি হিসেবে সময় কাটানো যথেষ্ট সুফলবহ। সমুদ্রের ধারে ঝাউবন বালিয়াড়ি আর নিস্তব্ধ পরিবেশ তাকে বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিচারণায় নতুন মাত্রা দেয়। দিনের শেষে, সাগর রৈখিক হওয়ার সঙ্গে হাজারো গাছের বাতাসে আপনি নিজেকে অনুভব করতে পারেন এক কবিতার অংশ হিসেবে।
এই গ্রামের অভিজ্ঞতা হয়তো ভ্রমণ কাহিনী আলাদা করে তুলে ধরে, ভরসা এক নির্জন নদী আর পাহাড় নয় বরং গ্রামে ঘুরে বেড়ানো এক সাহিত্য আদর্শের খোঁজ। এক এক করে গ্রামের গলি, বাড়ি, মাছ এক নতুন অধ্যায়ের খুলে দেয়। আপনি যদি দীঘা ভ্রমণের পরিকল্পনায়ক রয়েছেন, তাহলে একবার নেগুয়া গ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করুন। কারন এটি কেবল একটি পর্যটন স্পট নয়, একটি সাহিত্যিক স্মৃতিস্থল যেখানে বঙ্কিমচন্দ্রের চিন্তা রহস্য ও গল্প এখনো বাতাসে মিশে আছে।











