Srija Namosharma: শিলিগুড়ি দেশবন্ধু পাড়ার ২৬ বছর বয়সি এবার পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় রাজ্যের প্রথম স্থান অর্জন করে একেবারেই নিজেকে উত্তরবঙ্গকে গৌরবান্বিত করেছে। কোচিং এর সাহায্য না নিয়ে সম্পূর্ণ নিজের পরিশ্রম অধ্যাবসায় ও দৃঢ় সংকল্পে তিনি এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন যে গল্প বহু প্রতিযোগী পরীক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত করবে।
সৃজার জীবনের গল্প শুধু পরীক্ষায় সফলতা নয়, গরম কঠিন জীবনের সঙ্গে লড়াই করার এক অসাধারণ উদাহরণ। তার বাবা বাবুল নমো শর্মা প্রায় ৩০ বছর রাজ্য পুলিশের একজন নিষ্ঠাবান ও শ্রদ্ধিত পুলিশ অফিসার ছিলেন, যিনি ছোটবেলায় সৃজার মনে পুলিশের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও দায়িত্ব বোধ তৈরি করে ছিলেন। বাবা মর্যাদার ভরা কাজ এবং সৎ জীবনের আদর্শ ছিল সৃজার প্রথম প্রেরণা।
কিন্তু ২০১৮ সালে পরিবারের জীবনে আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হয় যখন বাবুল নমো শর্মা দুটি কিডনি বিকল হয়ে যায় এবং দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয় পরিবারের কঠিন আর্থিক সংকটে পড়ে। সেই সময় স্বাভাবিক পড়াশোনার জন্য যথেষ্ট সুবিধা ছিল না, তবু সৃজা পড়াশোনায় অনমনীয় মনোযোগ বজায় রাখেন। প্রাইভেট কোচিং নেওয়া এক দূরের কথা, নিজের বইয়ে অধ্যায়নের ওপর ভর করেই তিনি পরীক্ষা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেন।
তাদের জীবনে আরো বড় ধাক্কা সে ২০২৩ সালের নভেম্বরে, যখন আচম খাই তার প্রিয় বাবা আর থাকার থাকেন না। গভীর শোক ও চাপের মাঝে দাঁড়িয়ে থেকেও সৃজা বাবা স্বপ্নকে নিজের শক্তি করে WBCS এর জন্য পরীক্ষায় বসেন। সেই অধ্যাবসায়ী এবার ফল দিয়ে দিয়েছে রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থান।
শিলিগুড়ি গার্লস হাই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর সৃজা বিধানচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২৩-২৪ সাল জুড়ে তিনি মোট আটটি প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং প্রতিটিতেই সফল হয়। বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য এই সকল পরীক্ষায় তিনি কোন কোচিং নেওয়া ছাড়াই শুধুমাত্র নিজের অধ্যাবসায় প্রস্তুতি নেন।
বর্তমানে সৃজার কলকাতা কাউন্সিল অফ সাইন্টিফিক এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেকশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি ছুটিতে তিনি শিলিগুড়ির বাড়িতে এসেছিলেন, ঠিক সেই সময়েই তার এই বিশাল সাফল্যের খবরে পরিবারের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছিল।
যদিও তার বাবা আজ আর নেই, সৃজা জানিয়েছেন,”আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমাকে পুলিশের উর্দিতে দেখে সবচেয়ে খুশি হতেন।” তার এখনও সেই একই স্বপ্ন পুলিশ বিভাগের যোগদান এবং ভবিষ্যতে আইপিএস কর্মকর্তা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
সৃজার এই সাফল্যের খবরে শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ তার বাড়িতে যান এবং তাকে সংবর্ধনা জানান। সে সময় ভারতীয় মূল্যের নাড়ের মূলে আবেগ ও গর্বের মুহূর্ত ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটি উপস্থিতির মধ্যে।
আরও পড়ুন: বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকোত্তরদের জন্য মোটা বেতনের চাকরির বিজ্ঞপ্তি জারি
তার পরিবার ও শিক্ষা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতি দৃঢ় মনোভাব নিয়ে এগিয়ে চলছে। সৃজার প্রিয় ভাই বর্তমানে আইটি খড়্গপুরে পড়াশোনা করছেন। সিজার মা মুন্নি নম শর্মা গর্ব ও আবেগ নিঃসৃত অনুভূতিতে বলেছেন যে, যদিও আর্থিক সমস্যা বড় কোচিং নেওয়ার সম্ভব হয়নি, তবুও মেয়ে নিজের চেষ্টায় এমন সফলতা অর্জন করেছে এটা তাদের জীবনের সবথেকে বড় উপহার।
সৃজা নমোশর্মার গল্প প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতি কেউ যদি অধ্যাবসায় দৃঢ় বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাস থাকে তাহলে কোন লক্ষ্যই অসম্ভব নয়। তার এই কীর্তি উত্তরবঙ্গের অসংখ্য তরুণীকে অনুপ্রাণিত করবে, স্বপ্ন দেখো পরিশ্রম করো আর কোন বাধায়ে তোমাকে আটকে দিতে পারবে না।
Please Visit – trendypavilion.com










