Typhoid: দেশের টাইফয়েডের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষত পাঁচ বছরের নিচে শিশুরা এই রোগের জন্য সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বাবা-মা ও পরিচর্যা কারীদের অবশ্যই টাইফয়েডের লক্ষণ সংক্রমণের কারণ এবং কত দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নেওয়া উচিত এসব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। অন্যদিকে, গবেষণা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে শিশুরা টাইফয়েডের দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং জটিলতা বাড়ার ঝুঁকি থাকে বেশি।
টাইফয়েড একটি সংক্রামক সালমোনেল্লা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়। সাধারণভাবে ব্যাকটেরিয়া দূষিত খাবার বা জলের দ্বারা শরীরে প্রবেশ করে। বিশেষ করে, হাত পা পরিষ্কার না করে খাবার খাওয়া, খোলা রাস্তায় জাঙ্ক ফুড, বাইরের ব থাকা অপরিষ্কার পণ্য ইত্যাদি সবই সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
টাইফয়েড এর মূল কারণ ও সংক্রমণ
টাইফয়েডের সংক্রমণ মূলত ফেকাল-ওরাল রুটে ছড়ায় অর্থাৎ ব্যক্তির মল বা প্রস্রাবের মাধ্যমে দূষিত জল বা খাবারের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া মিশে যায় এবং ওই জল বা খাবার খেলে সংক্রমণ হয়। নিরাপদ জল পরিষ্কার পরিশ্রুত খাবার ও পরিচ্ছন্নতার অভাবে এই রোগ দ্রুত ছড়াতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সঠিক চিকিৎসা না পেলে এটি লিভার, অন্ত্র বা রক্তে ছড়িয়ে গিয়ে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
শিশুদের মধ্যে টাইফয়েডের লক্ষণ কি কি
টাইফয়েডের প্রাথমিক লক্ষণ গুলি অনেক সময় ধীরে ধীরে দেখা যায় এবং 6 থেকে 7 দিন পরও বা এক মাস পর্যন্ত বিলম্বে প্রকাশ পেতে পারে। শিশুর ক্ষেত্রে এর লক্ষণ গুলিকে লক্ষ্য রাখা খুব জরুরী সাধারণত দেখা যায়-
- উচ্চ জ্বর: ১০৩ থেকে ১০৪°F বা তার বেশি তাপমাত্রা যা দিনে বেশি কয়েকবার মারতে পারে।
- অসহনীয় পেটের ব্যাথা: শিশুটি তীব্র ব্যথায় কাঁপতে পারে
- কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া: পেটের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে
- অতিমাত্রায় ক্লান্তি: খুব দুর্বল হয়ে পড়া বা খেলাধুলায় অনীহা।
- জীবের সাদাটা আস্তরণ: অনেক শিশু খাবারের স্বাদ ঠিকমতো পায় না।
- বমি বমি ভাব: কিছু খাওয়ার পর বমি হতে পারে
- মাথাব্যথা ও কাশি: মাঝে মাঝে প্রচন্ড মাথা ব্যথা বা শুকনো কাশি থাকতে পারে।
- জন্ডিসের উপসর্গ: কিছু ক্ষেত্রে ত্বক বা চোখে হলুদ ভাব দেখা যেতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রেই শিশুরা ক্ষুধা কমে যায় বা খাবার গিলতেও কষ্ট অনুভব করে, ফলে তার উন্নত অবস্থায় থাকা শক্তি দ্রুত খোয়ায়।
প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
টাইফয়েড প্রতিরোধে বাবা-মায়ের কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি-
- শুধু ফুটন্ত জল খাওয়ানো
- বাড়ি ও আশেপাশে শৌচাগার পরিষ্কার রাখতে হবে
- খাবার আগে ও বাইরে থেকে ফিরে হাত মুখ ভালো করে ধুতে হবে
- হাইজেনিক খাবার প্রস্তুত করা, যেমন কাঁচা শাকসবজি বা কাঁচা মাংস মাছ খুব ভালোভাবে ধুয়ে রান্না করা।
আরও পড়ুন: ন্যালকোতে(NALCO) গ্রাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার ট্রেনি নিয়োগ, আবেদন শুরু জানুয়ারি থেকে
বিশেষজ্ঞরা সর্বদা বলেন, শিশুরা টাইফয়েডের টিকা নেওয়া উচিত বিশেষত যেখানে জীবনযাত্রায় জল ও পরিস্থিতির নিরাপদ নয় বা রোগ প্রবণ এলাকা হলে। টিকাকরণ শিশুকে এই মারাত্মক রোগ থেকে অনেকটাই নিরাপদে রাখে এবং জটিলতা কমায়।
সঠিক চিকিৎসা পরিচ্ছন্নতা ও সতর্কতার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে টাইফয়েডের ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব। তাই পরিবার ও পরিচর্যা কারীদের এই সম্পর্কে সচেতন থাকা অতীব জরুরি।











