আমাদের পারিপাক তন্ত্র শুধু শুধু খাবার পচন করার কাজ করে না। বৃহদন্ত্র, পাকস্থলী ও লক্ষ লক্ষ উপকারী ব্যাকটেরিয়া মিলে খাদ্যকে ভেঙে পুষ্টি শোষণ, হরমোন ভাবসাম্য রক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।তবে এই জটিল প্রক্রিয়া ঠিকভাবে না হলে পেটই প্রথম ইঙ্গিত দেয়। তাই ছোটখাটো উপসর্গ গুলিকে উপেক্ষা না করে মনযোগ দিয়ে বুঝতে পারা জরুরি।
খাবার খেলেও পেট ফেঁপে থাকছে?
হালকা খাবারে ও পেট ভারী বা অস্বস্তিকর ভেবে থাকলে এটা প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে। এমন অবস্থায় অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার অভাব বা ব্যাকটেরিয়ার সমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দই,চাপ বা প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার ব্যাকটেরিয়া সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে এবং গ্যাস ফোলা ভাব কমানোর সমস্যা কমায়।
নিয়মিত পেট পরিষ্কার হচ্ছে না?
কোন পূর্বের কোষ্ঠকাঠিন্য নয়, অথচ নিয়মিত পেট পরিষ্কার না হওয়া, বিরক্তি কর কাবজ বা ডায়েরিয়া এগুলো হজমের এলার্ম সিস্টেম হতে পারে। যথেষ্ট ফাইবার, পর্যাপ্ত পানি ও হালকা শারীরিক কর্মব্যথা না থাকলে এমন সমস্যা বেড়ে যায়। ফাইবার সমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফল নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখুন এবং দিনে কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি পান করুন।
বারবার ক্লান্তি ও আলস্য লাগছে?
প্রচুর পরিমাণে বিশ্রামের সত্ত্বেও ক্লান্তি বা শক্তিশূন্যতা অনুভূত হলে খেয়াল রাখুন এটি শুধুমাত্র নান্দনিক সমস্যা নাও হতে পারে। হজমের গোলযোগ থাকলেও শরীর ঠিকভাবে পুষ্টি শোষণ করতে পারে না, যার ফলে ভিটামিন বা খনিজের অভাব ও তৈরি হতে পারে। ফলে সারা দিনেও লেভেল ডাউন অনুভূত হতে থাকে।
নির্দিষ্ট খাবার হজম সহজ নয়?
কিছু খাবার যেমন দুধ বা গম জাতীয় খাদ্য খেলে পেটব্যথা বদ হজম বা নোনতা অনুভূত হলে এটা খাদ্যসহনশীলতার সমস্যার ইঙ্গিত। যেমন- ল্যাকটোজ ইন টলারেন্স বা গ্লুটেন সংক্রান্ত সমস্যা ক্ষেত্রে এমন প্রতিক্রিয়া হতে পারে। প্রয়োজন হলে খাদ্য তালিকা পরীক্ষা করে দেখুন, কোন খাবারটা আপনার পেট কে বিরক্ত করছে।
ত্বকের বদ আচরণ হতে পারে পেটের সংকেত
অনেক সময় পেটের সমস্যা শুধু হজমের সীমাবদ্ধ থাকে না, ত্বকেও এর প্রভাব পড়ে। ব্রণ, একজিমা বা ত্বকের অস্বস্তি প্রাথমিকভাবে এই অন্তঃস্থ জনিত সমস্যার প্রতিফলন হতে পারে। শরীরের ভেতর ট্রেস ও ইমিউন রেসপন্স খারাপ ফল ও ত্বকে বেরিয়ে আসে।
কবে সতর্ক হওয়া উচিত?
যদি উপসর্গগুলো সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, এটি নিয়মিত নয় এমন কিছু হওয়া উচিত। এমন ক্ষেত্রে বাড়তি উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে যদি পেট ব্যথার, রক্ত মিশ্রিত পায়খানা অনেক প্রাকৃত ওজন কমা বা খাদ্য সহনশীলতার দিক থেকে সবসময় সমস্যা থাকে পেশাদার রোগ নির্ণয় জরুরী।
আরও পড়ুন: বাস্তুশাস্ত্র মতে ঘরে কোন ধরনের লক্ষ্মী প্রতিমা রাখলে আসবে সুখ- সমৃদ্ধি ও অর্থভাগ্য
পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে করণীয়
প্রতিদিন সহজ কিছু অভ্যাস পালন হজম শক্তি উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পায়-
ফাইবার সম্পৃক্ত খাবার খাওয়া শাকসবজি, ফল গোটা শস্য অন্তরে নরমাল ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।
- পর্যাপ্ত পানি পান করা
হজম পদ্ধতিকে মসৃণ করে গ্যাস ও অস্থিরতা কে কমায়।
- হালকা ব্যায়াম বা হাঁটা
খাবারের পর হালকা হাটা হজমকে ত্বরান্বিত করে এবং পেটের অস্বস্তি কমায়।
- প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার
দুধ, ঘোল বা টক দই অন্তরের সহায়ক ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে।
- চাহিদা মত বিশ্রাম ও মানসিক শান্তি
ট্রেস হজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
পেটের উপসর্গ গুলোকে ছোটখাটো ভাববেন না।শরীরের অনেক বড় সংকেত প্রথমে পেট থেকে আসে। তাই সময় থাকতে সতর্কতা নেওয়া, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন আনা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নেওয়া সেইসব আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। পেট ভালো থাকলে সারাদিন আপনার শরীর ও মন ভালো থাকবে। সার্বিক সুস্থতা হচ্ছে আপনার জীবনের অন্যতম অমূল্য সম্পদ।











