Winter Weekend Trip: শীতকাল মানেই ঘুরে বেড়ানো সেরা সময়। যদি আপনি কলকাতা থেকে সপ্তাহান্তে কোথাও ভাল ও বেশি সময় কাটাতে চান, তাহলে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর বা টাটানগর আপনার জন্য নিখুঁত গন্তব্য হতে পারে। মাত্র 3 থেকে 4 ঘন্টা ট্রেনে বা সড়কপথে পৌঁছাতে পারেন এই শহরটিতে। শুধু একটি শিল্প নগরী নয়, এটি এর চারপাশে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য জলাধার উদ্যান পাহাড় এবং ঐতিহাসিক স্থান। জামশেদপুরের এই আকর্ষণ গুলো শীতের সময় আরো বেশি প্রাণবন্ত হয়, তাই এটি একটি আদর্শ শীতকালীন উইকেন্ড ভ্রমণের জায়গা।
Jamshedpur এর প্রাচীন নাম টাটানগর। এটি জামশেদজি টাটা তার নাম অনুসারে পরিচিত। এই শহরটি ইস্পাত শিল্প এবং কলোনির জন্য বিখ্যাত হলেও, এর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান শীতের সময় পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। শহরের যানজট এবং ব্যস্ততা থেকে বেরিয়ে আপনি প্রকৃতি নীরবতা নির্জনতা উপভোগ করতে পারবেন এখানে।
ডিমনা লেক শীতকালীন রোমাঞ্চ
শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরের ডিমনা লেক। যা দলমা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। শীতের সময়ে এই জলাধারের পাশে পিকনিক করার জন্য বহুলক আসে। সন্ধ্যার দিকে স্পিড বোটে ঘোরাঘুরি করে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই মনমুগ্ধকর। লেকে পার্শ্ববর্তী রাস্তা দিয়ে হেঁটে প্রকৃতির প্রশান্তি অনুভব করা যায়।

শীতকালের ডিমনা লেকের নৈসর্গিক সৌন্দর্য যেন অন্যরকম হয়ে।ওঠে বৃষ্টির পর পরিষ্কার আকাশ ও শীতের হালকা কুয়াশা লেগে জলে প্রতিফলিত হয়। ফলে ছবির মত দৃশ্য তৈরি হয় যা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক আলাদা অনুভূতি দেয়।
ভুবনেশ্বরী মন্দির ও হার্ডকো লেক
টাটা কলোনির একটি ছোট্ট পাহাড়ের মাথায় অবস্থিত ভুবনেশ্বরী মন্দির। শীতের সময় ঘুরে দেখার জন্য চমৎকার জায়গায়। এখানে পৌঁছতে কিছুটা হাত আবার সিঁড়ি চড়ে ওপরে যেতে হয়, কিন্তু ওপরের থেকে সকল ও পাহাড়ের ভিউ অসাধারণ নদী থেকে ২.৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে হাতগুলো হোক যেখানে সুন্দর উদ্যান ঘেরা জলাধার আপনাকে স্বাগত জানাবে। শীতের দিনে এখানে পিকনিক করতে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ ও পাবেন।

জুবিলী পার্ক ও রুশি মোদি সেন্টার
শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জুবিলী পার্ক সৌন্দর্যপূর্ণ উদ্যান ও ফোয়ারা সহ একটি বিশাল বিনোদন কেন্দ্র। সন্ধ্যার আলোতে এই পার্কটি আরো মনোরম হয়ে ওঠে। পার্কের কাছে রয়েছে রুসি মোদীর সেন্টার অফ এক্সিলেন্স এটি একটি আধুনিক প্রদর্শনী কেন্দ্র। যেখানে টাটা পরিবারের ইতিহাস ও ইস্পাত শিল্পে বিবরণ পাওয়া যায়।

চান্ডিল ড্যাম ও দলমা অভয়ারণ্য Jamshedpur থেকে প্রায় ৩০ কিঃমি দূরে চান্ডিল ড্যাম আছে, যা বিশাল জলাধার এবং পাহাড়ের দৃশ্য দিয়ে মন জয় করে নেয়। এখানে আপনি স্পিড বোট রাইট বা ছবি তোলার মতোকার্যক্রম উপভোগ করতে পারবেন। আরো দূরে দলমা পাহাড় ও অভয়ারণ্য রয়েছে যেখানে ঘন বনানী, বন্যপ্রাণ দর্শনীয় স্থান লোকাল পয়েন্ট ট্রেকিং করে স্বাভাবিক জীবনের কাছাকাছি আসা সুযোগ মিলে। বিশ্রাম নিতে রিসোর্ট গুলিতে ও থাকা যায়।
আরও পড়ুন: ছুটির দিনে ওজন বেড়ে গিয়েছে? ঠাকুমার ঘরোয়া টোটকায় কমান দ্রুত ওজন
কিভাবে যাবেন এবং কোথায় থাকবেন
কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য শহর থেকে হাওড়া থেকে টাটানগর জংশন পর্যন্ত ট্রেন রয়েছে। ট্রেনে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার ঘন্টায় পৌঁছে যায়। এছাড়াও সড়ক পথেও আপনি গাড়ি বা বাস যোগাযোগের মাধ্যমে Jamshedpur পৌঁছাতে পারবেন। শীতকালের ট্রেনে ভ্রমণ আলাদা অনুভূতি দেয়। বিশেষ করে সকালে উঠেই ওঠার আগে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
টাটানগর শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল আছে সাকচি, বিষ্টুপুর বা জুবিলি পার্ক সংলগ্ন এলাকায় থাকা ব্যবস্থার রয়েছে। দলমা অঞ্চলেও কিছু রিসোর্ট আছে, বিশেষ করে প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য।
শীতের কুয়াশা, জলের ধারে বয়ে চলা হিমেল বাতাস, পাহাড়ির নীচে লেকের জল এসব মিলিয়ে জামশেদপুর হয়ে উঠেছে একটি চমৎকার weekend destination। যদি আপনি এই শীতকালে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছু সময় কাটাতে চান, নিজের সফর সুচি সাজিয়ে জামশেদপুর দেখে আসা উচিত।











