Parenting Guide: আপনার সন্তানের মুখে বারবার অকারণ মিথ্যে কথা শুনে কি চিন্তায় পড়ে যান? ছোট বাচ্চাদের মাঝে মিথ্যে বলা অনেকটা সাধারণ, কিন্তু অনেক সময় তাআচরণগত প্রবণতা হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞ মনোবিদ প্রিয়াঙ্কা দাস বলেছেন, শিশুর মিথ্যে বলার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে যেমন বকুনির ভয়, মনোযোগ আকর্ষণ কিংবা কল্পনাশক্তি।
মিথ্যা বলার জনপ্রিয় কারণ
অনেক শিশু মন আকর্ষণ করতে ছোট ছোট মিথ্যে দ্বারা তাদের অভিভাবকদের নজর পেতে চাই। মাঝেমধ্যে তারা কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে চাই, তাই গুছিয়ে মিথ্যা কথাকে রুপ কাহিনীর মত ব্যবহার করে। এছাড়া ভীতির আশ্রয় নিয়েও মিথ্যে বলা হয়।, বিশেষত যদি তারা শাস্তি বা বকুনি ভয় পায়। বকুনির ভয়ে মিথ্যা বলার অভ্যাস গড়ে ওঠে।
যদিও ছোট বয়সে মিথ্যে বলা খুব খারাপ নাও হতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২-৪ বছরের শিশুরা মিথ্যা বলতে পছন্দ করে কারন এটি তাদের প্রথম ধাপ বুদ্ধিমত্তার বিকাশের অংশ হতে পারে।
কিন্তু কি বড় সমস্যা হতে পারে?
যদিও শুরুতে মিথ্যা বলার এই অভ্যাস সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যদি তার গুরুত্ব অনাবিল থাকে, তাহলে এটি সমস্যার হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। অভিভাবকরা যদি এসব মিথ্যে কথা কে ছোটখাটো বিষয় মেনে নেন বা গুরুত্ব না দেন তাহলে শিশু তার মিথ্যা বলা কে অপরাধ হিসেবে বোঝেনা। এতে ভবিষ্যতে শিশু সত্যতা বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সম্পর্ক গঠনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
করণীয় কি?
- দৃঢ় কিন্তু নম্র প্রতিক্রিয়া: শিশুকে কোঠর শাস্তির মাধ্যমে ফলপ্রসু শিক্ষা না দিতে পারলেও, গরম গলা বা অপমানের ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত নয়। শান্তভাবে কথা বলুন এবং তার সঙ্গে বিশ্বাস গড়ে তুলুন।
- সত্যতার গুরুত্ব বোঝান-শুধু মিথ্যা বলো না বলার চেয়েও, তাকে ব্যাখ্যা করুন কেন সত্য বলা গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশ্বাস গড়ে তুলতে, সম্পর্ক মেরামত করতে এবং ব্যক্তিগত সম্মান বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- তার আচরণে প্রশংসা করুন: যখন সে সত্য বলবে, তার সাহসকে স্বীকৃতি দিন এবং তাকে প্রশংসা করুন। পজেটিভ রিইনফোর্সমেন্ট মিথ্যে বলার প্রবণতা কমাতে সহায়ক।
- নমনীয় পরিবেশ তৈরি করুন: একটি নিরাপদ জায়গায় গড়ে তুলুন, যেখানে শিশুটি তার অনুভূতি ভিত্তি বা ভুল স্বীকার করতে পারে। তাকে জানিয়ে দিন যে ভুল করা স্বাভাবিক, কিন্তু সত্য বলার পথে তার সঙ্গে আপনি আছেন।
- নিজেই সৎ থাকুন: শিশুরা অনেক কিছু শেখে অভিভাবকদের মাধ্যমে। যদি আপনি নিজেই সত্য বলার পথ অনুসরণ করেন। এমনকি ছোটখাটো ক্ষেত্রে তাহলে এসে আপনাকে দেখে সত্যের মূল্য শিখবে।
আরো পড়ুন: শীতকালে সকালে ঘুম ভাঙতে সমস্যা? এই সহজ কৌশল গুলি মেনে চললেই দিন হবে প্রাণবন্ত
মিথ্যে বলার প্যাটার্নে নজর দিন
কখন কি কারনে এবং কত ঘন ঘনশে মিথ্যে বলছে তা পর্যবেক্ষণ করুন। যদি এটি একটি অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে শুধু শান্তি বা ধমকানোর বদলে তার অনুঘটনা গত কারণগুলোর বোঝার চেষ্টা করুন। যদি প্রয়োজনে, এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা শিশু মনোবিজ্ঞানের সঙ্গে পরামর্শ করা দরকার হতে পারে।
সততা গড়ে ওঠা সহজ পথ নয়, কিন্তু ধৈর্য বোঝাপড়া ও সংহতির সঙ্গে আপনি এবং আপনার সন্তান একসাথে বিশ্বাসযোগ্যতার দিকে এগিয়ে যেতে পারে। সততার মূল্য অবিশ্বাসী ভবিষ্যতে তার জীবনের ভিত্তি গড়ে তুলবে।











