আজকের রাশিফল আবহাওয়া Human Interest Story খুঁটিনাটি বিনোদন প্রকল্প Tech চাকরি ব্যবসা বাণিজ্য লাইফস্টাইল শেয়ার মার্কেট অন্যান্য

Buxa Tiger Reserve: চুনিয়া সাফারি খুলছে শীঘ্রই, দুই মাসের অপেক্ষার শেষ প্রহর গননা করছেন পর্যটক ও গাইডরা

Published on: November 20, 2025
Buxa Tiger Reserve

Buxa Tiger Reserve: ডুয়ার্সের জঙ্গল সিজন শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে পর্যটক এ ভরপুর জলদাপাড়া গরুমারা, বক্সার বহু অংশ। কিন্তু এই জঙ্গল খোলার ঋতুতে এই একটাই নাম শুনলে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন পর্যটকরা চুনিয়া সাফারি। বহু পর্যটকের পছন্দের বক্স ব্যাঘ্র প্রকল্পের এই জনপ্রিয় রূপটি এখনো বন্ধ। তবে অবশেষে সুখবর মিলেছে। বনদপ্তর জানিয়েছে খুব শীঘ্রই খুলে দেওয়া হবে চুনিয়া রুট। ফলে অপেক্ষার শেষ হতে চলেছে এর বক্সার হৃদয়ে অনাবিল জঙ্গলের স্বাদ মিলবে পর্যটকদের।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। কিন্তু পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি বক্সা ও জয়ন্তীর জঙ্গলে তেমন বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। জলদাপাড়া জঙ্গল দুর্যোগ কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে পুনরায় সাফারি শুরু হয়েছে।। সেখানে চুনিয়া সাফারি বন্ধ থাকার কারণ হিসেবে বনদপ্তর জানিয়েছিল রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। দুর্যোগের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত ওই রাস্তা এখনো মেরামত না হওয়ায় জঙ্গলের সাফারি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। আর সেই কারণেই এতদিন গাইড ও পর্যটকদের প্রত্যাশা সত্ত্বেও শুরু হয়নি রুটটি।

তবে পর্যটন মহলের দাবি চুনিয়া সাফারির আকর্ষণ এতটাই বেশি যে এই রোড বন্ধ থাকায় পর্যটকির সংখ্যা চোখে পড়ার মতো কমেছে। বহু পরিবার সাফারি বুকিং বাতিল করে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছেন। গাইডদের কথাই বক্সা জঙ্গলের সৌন্দর্যের আসল স্পন্দনই লুকিয়ে আছে চুনিয়ায়। জয়ন্তী নদী পার হয়ে যখন গভীর সবুজের ভেতর দিয়ে দেড় ঘন্টা সাফারি এগো তখন প্রতি মোড়ে জঙ্গলের রূপ দেখা যায়। পাখির ডাক নদীর গর্জন আর নিস্তব্ধ পাহাড়ি পরিবেশ এক অন্য অনুভূতি তৈরি করে।

স্থানীয় গাইড ও পর্যটন ব্যবসায়ী জগদীশ ওরাও জানান,”সোনিয়া রূপের কাছে রয়েছে চুনিয়ার ঝোরা ও বিস্তীর্ণ চা বাগান। এই বাগানে এখন প্রায়ই দেখা মিলে লেপার্ডের। ওয়াচ টাওয়ার থেকে পর্যটক এরা নিয়মিত দেখতে পান তাদের চলাফেরা। হাতির পথে ওপরে এই রুট। যেকোনো মুহূর্তে দেখা মেলে বন্য হাতির পাল। এছাড়া রয়েছে বাইসন, হরিণ, বন্য শুকর সব বহু প্রজাতির প্রাণী। জঙ্গল ঘেরা গ্রামটিও এখন বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণভূমি। সেখানে থাকা জলাশয় নিয়মিত জল পান করতে আসে প্রাণীরা। ফলে পর্যটকদের কাছে চুনিয়া সাফারি হয়ে ওঠে বিশেষ আকর্ষণীয়।

আরও পড়ুন: কলকাতা থেকে কম দূরত্বে অফবিট প্লেস, পিয়ালী নদীর তীরে শীতের দিনে এক নিস্তব্ধ অবকাশ যাপন

তবে জঙ্গল খোলার দেড় মাস পেরিয়ে গেলে রোড বন্ধ থাকায় হতাশা হচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। সাফারির আশায় এসে ফের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেককেই। পর্যটন ব্যবসা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গাড়ি চালক, গাইড, লজ মালিক সবাই ক্ষতির মুখ দেখছেন। তাদের দাবি একটাই চুনিয়া রুট দ্রুত খুলে দেওয়া হোক।

অবশেষে বনদপ্তরের আশ্বাসে আশায় বুক বাঁধছে ডুয়ার্স প্রেমীরা। রাস্তার মেরামতি শেষ হলেই চালু হবে সাফারি। আর তারপরেই ফের গর্জন উঠবে বক্সার জঙ্গলে আর চুনি আর পথে ফিরবে পর্যটকদের ভিড়। জঙ্গলের মায়া যে এড়িয়ে থাকা কঠিন, তাই এই অঞ্চলের মানুষ খুব ভালো করেই জানে। এবার সেই মায়ার টানেই আবারো ব্যস্ত হয়ে উঠবে ডুয়ার্স জুনিয়ার সাফারি এটাই আশা স্থানীয়দের।

Mahasina Nasrin

আমি মাহাসিনা নাসরিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছি। বর্তমানে আমি আচার্য ইনস্টিটিউট অফ গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছি। বর্তমানে আমি ২৪ ঘন্টা আরামবাগে সংবাদ প্রতিবেদক, ভয়েস ওভার শিল্পী এবং কপি লেখক হিসেবে কাজ করছি। আমি পূর্বে টেক মিডিয়া, টেক ওয়াইফাই, সোকালের বার্তা ওয়েবসাইটে কন্টেন্ট লেখক হিসেবে যুক্ত ছিলাম।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment