Cloud Kitchen Business Guide: করোনা মহামারী ও লক ডাউন আমাদের কাছ থেকে যেমন অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছিল, শ্যামলী শিখিয়ে দিয়েছিল বেশ কিছু মূল্যবান শিক্ষা। সবচেয়ে বড় শিক্ষার ডিজিটাল দুনিয়ার অসীম সম্ভাবনা। ঘরবন্দী জীবনের মাঝে মানুষ নতুনভাবে আবিষ্কার করেছিল অনলাইন স্পেস কে। ইন্টারনেটে হয়ে উঠেছিল বাজার দোকান খাবার-দাবারের হোটেল সব কিছু নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। ফোনে অর্ডার করুন আর মুহূর্তেই গুপী বাঘার মতো ভোজ হাজির হবে আপনার দরজায়।
অনলাইন ফুড এপ এর ধারণা নতুন নয়, তবে লকডাউনের পর এই প্লাটফর্মের ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ। অনেকেই এই ডিজিটাল সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে শুরু করেছেন নিজের ব্যবসার নতুন অধ্যায়। বাড়িতে বসেই ‘ক্লাউড কিচেন’। রান্না যার নেশা, তার জন্য এটি কম খরচে এবং ঝুঁকিহীন ব্যবসা শুরু করার এক দারুন সুযোগ। নিজের ঘরে রান্নাঘরকে ব্যবহার করেই তৈরি করা যায় নানা পথ আর তার ডেলিভারি পৌঁছে যায় ক্রেতার বাড়িতে ফুড ডেলিভারি অ্যাপ অথবা নিজস্ব ডেলিভারি সিস্টেমের মাধ্যমে।
কিভাবে শুরু করবেন ক্লাউড কিচেন
প্রথম ধাপ-নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আ্যকাউন্ট খুলুন। ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপে পেজ তৈরি করে সেখানে মেনু,মূল্য, অর্ডারের নিয়ম, খাবারের ছবি সবকিছু আপলোড করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হবে প্রচার এবং অর্ডার নেওয়ার প্রধান মাধ্যম। এরপর আপনার কিচেন কি রেজিস্টার করতে পারেন যে কোন ফুড ডেলিভারি অ্যাপে, যেমন জোমাটো ও সুইগি ইত্যাদি। চাইলে নিজস্ব ডেলিভারি পার্টনার রাখতে পারেন। সবচেয়ে জরুরী আপনি কোন ধরনের খাবার পরিবেশন করতে চান তার একটি সুসংগঠিত তালিকা তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা।
এই ক্লাউড কিচেন মডেলকে কাজে লাগিয়ে আজ অনেক তরুণ-তরুণী নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে হাঁটছেন। যেমন ক্লাউড কিচেন এর মালিক জয়শ্রী দত্ত। তিনি জানালেন,”পড়াশোনা শেষ করেই ভাবছিলাম নিজের কিছু করব। পিজ্জা, কোল্ড কফি নানা ধরনের ড্রিংকস বানানো আমার ছোটবেলার নেশা। সেখান থেকে ‘পিজ্জা জংশন’ এর জন্ম। বাড়িতেই শুরু করেছি। খুব বেশি ইনভেস্ট লাগে না, রান্নার কাঁচামাল আর ফুড অ্যাপের সামান্য ফি। ডেলিভারি অ্যাপই আমাদের খাবার পৌঁছে দেয় গ্রাহকের কাছে।
এই গল্পের মত আরেকটি দৃষ্টান্ত তিন বন্ধুর উদ্যোগে গড়ে ওঠা”কাল সে জিম”ক্লাউড কিচেন। মালিকদের একজন শেখ আখিল বলেন,“আমরা এখনো পড়াশোনা করি। তবু চাইতাম নিজের কিছু করতে। আমাদের রান্না মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে এই ভাবনা থেকেই ক্লাউড কিচেন শুরু করলাম। আজ ধীরে ধীরে আমাদের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে”।
আরও পড়ুন: জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে বীরভূম জেলার স্বাস্থ্য দপ্তরে কর্মী নিয়োগ
ক্লাউড কিচেন এর জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে কারণ এতে বিনিয়োগ কম, ঝুঁকি কম অথচ বাড়িতে বসেই আয় করার সুযোগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি প্রচলিত রেস্তোরাঁ মতো ভাড়া স্টাফ বা সাজসজ্জার খরচও নেই। খুব ভালো রান্না আর পরিষেবার গুণমান থাকলে এই ব্যবসা সফল হওয়া সম্ভব।
লকডাউনের কঠিন সময় ডিজিটাল ব্যবসার জন্য যে দরজা খুলেছিল, তা এখন আরও বড় সম্ভাবনার জানালা হয়ে উঠেছে। ক্লাউড কিচেন সেই নতুন সম্ভাবনারি উজ্জ্বল উদাহরণ যেখানে নেশায় হয়ে উঠেছে পেশা, আর রান্না ঘরে মানুষের স্বপ্নকে দিচ্ছে নতুন পরিচয়।











