ঠিক মানেই খেজুর গুড়ের চাহিদা পরিপূর্ণ ঊর্ধ্বমুখে। পিঠা পুলি থেকে শুরু করে চা ও মিষ্টিতে গুড়ের রসালো স্বাদ ছাড়া বাঙালির শীত পূর্ণভাবে উপভোগ করতে পারেন না। কিন্তু এই বৃদ্ধি প্রবণ চাহিদার সুযোগ নিয়ে বাজারে নকল গুড় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। দারুন সস্তায় বা চকচকে গুড় দেখতে আকর্ষণীয় হলেও তা উপরিউক্ত উপাদান এবং রাসায়নিক দ্বারা মিশ্রিত হয়ে থাকতে পারে, যা স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই আসল গুড় ও ভেজাল গুড় চেনা জরুরী নিচে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর টেকনিক দেওয়া হল।
* রং ও গড়ন পর্যবেক্ষণ করুন
আসল খেজুর গুড় সাধারণত গারো বাদামী বা হালকা সোনালী বাদামী রং এর হয়। অন্যদিকে যেসব গুড় অতিরিক্ত চকচকে দেখায়, তারা নকল বা মিশ্রিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ অসাধু ব্যবসায়ীরা ঘুরে কৃত্রিম রং ও চিনি মিশিয়ে চকচকে চিনিস তৈরি করে বিক্রয় যোগ্যতা বাড়ায়।
পাটালি গুড় (খেজুর গুড় দিয়ে তৈরীর এক বিশেষ ধরণ গুড়) আসল হলে তার লালচে কালচে হবে, যদি মিষ্টি তো হয় তাহলে তার রং হালকা, সাদা মর্যাদার দিকে সরে যায়।
জলে গুড় দ্রবীভূত করার প্রক্রিয়া করুন
একটি ছোট টুকরো গুড় গরম জলে ডোবান। আসল গুড় ধীরে ধীরে গলে যাবে এবং জল ধীরে ধীরে বাদামী হয়ে যাবে। কিন্তু যদি জলে গুড় দ্রবীভূত না হয়, বা গ্লাসের নিচে সাদা বা অন্য কোন অবশিষ্ট ধান দেখা যায়, তাহলে সেটা ভেজাল বার রাসায়নিক মিশ্রিত গুড় হতে পারে।
গন্ধ ও স্বাদ পরীক্ষা করুন
নকল গুড় প্রায় কেমিক্যালি গন্ধ যুক্ত হয় বা তেতো স্বাদ দেয়। অন্যদিকে আসল গুড় গন্ধ মধুর, ও মাটির মতো ধীরে ধীরে গলে যাওয়া গুড়ের একটি প্রাকৃতিক মিষ্টতা থাকে।
তাপ দিয়ে গুড় বলে যাওয়ার ধরন দেখুন
- গুড়কে কম আছে একটি চামচে রাখুন এবং গরম করুন। আসল গুড় গোলে যেতে গিয়ে তীব্র ধোঁয়া বা কেমিক্যাল গন্ধ ছাড়বে না।
- কিন্তু নকল গুড় গরম করার সময় কালো ধোঁয়া বা অস্বাভাবিক রাসায়নিক গন্ধ তৈরি করতে পারে, যা সর্তকতা জানান দেয়।
শারীরিক গঠন আঠালো বা ভেজা কিনা দেখুন
আসল গুড় কিছুটা আঠালো অনুভূত হয় এবং তার পৃষ্ঠা নান্দনিক ভাবে রুক্ষ থাকতে পারে। নকল গু সাধারণত মসৃণ বা খুব চকচকে হয়, ইতি আদ্রতা কম থাকে এবং গঠন খুব কঠিন বা প্লাস্টিকের মতো দেখতে হতে পারে। যে পাটালি গুড় চাপ দিলে ভেঙ্গে যায় সেটি সাধারণত খাঁটি, কিন্তু যদি খুব শক্ত হয় তাহলে তাতে ভেজাল থাকার সম্ভাবনা বেশি।
কেন এসব টিপস গুরুত্বপূর্ণ
- ভেজাল গুড় তৈরি করার ক্ষেত্রে চিনি, রাসায়নিক রং, হাইড্রোজ এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদান ব্যবহার করা হয় যা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।
- সুতরাং বাজারে গুড় কেনার সময় সচেতন হয়ে ওপরে টিপস গুলো ব্যবহার করলে আপনি ভেজাল গুড় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।
শীতের রান্না এবং মিষ্টি সময়টা আরো আনন্দদায়ক করতে হলে শুধু স্বাদ নয়, গুড়ের গুণমানের প্রতি তৈরি বয়সগত সচেতনতা জরুরি। আসল গুড় বেছে নিন এবং স্বাস্থ্যের দিক থেকেও নিরাপদ থাকুন।








