Colonial History: ব্রিটিশ শাসনের সময় গড়ে ওঠা নীল চাষ ব্যবসারই সাক্ষী রয়েছেন মালদহ মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাসের মধ্যে চুপচাপ শুয়ে আছে চারজন নীলকর সাহেবের সমাধি, যাদের সমাধিস্থল প্রায় 2 শতাব্দীর পুরনো।
ইতিহাসবিদদের মতে, বাংলা অঞ্চলের একাধিক স্থানে বাণিজ্যিক উপনিবেশ করে তুলেছিল ও ব্রিটিশরা, এবং মালদহ সেই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গুলির মধ্যে অন্যতম ছিল। ওই সময় এখানে নীল চাষ ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল ব্রিটিশরা এখানকার নীলপল্লীতে এসে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র গঠন করেছিলেন যা ইংরেজবাজার নামে পরিচিতি পায়।
তাদের নীল বাণিজ্য পরিচালনকারীদের ‘নীলকর সাহেব’ হিসেবে ডাকা হতো।
যখন সময় তাদের মধ্যে কেউ মারা যেত, তাদেরকে বিশেষ মর্যাদায় সম্মান জানিয়ে সমাধিস্থ করা হত। এর ফলে মালদা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসেই চারজন নীলকর সাহেবের সমাহিত সমাধি গড়ে ওঠে। ইতিহাসবিদ এম আতাউল্লাহ জানিয়েছেন,“অনেক নীলকর ছিলেন অফিসার, নীলকুঠির দায়িত্বে যুক্ত এবং তাদের মধ্যে যারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন তাদের জন্য এখানে আলাদা পরিচয়লিপি সহ সমাধি তৈরি করা হয়েছিল”
এই সমাধিস্থল গুলি কেবল পাথরের স্তুপ বা স্থিতিস স্তম্ভ নয়, এগুলি ব্রিটিশ শাসনকালের ইতিহাস কে মৌন ভাষায় জানিয়ে দেয়। প্রায় ১০০ বছর, ১৫০ বছর, এমনকি ২০০ বছরের পুরনো সমাধি দেখায় কিভাবে ব্রিটিশরা শুধুমাত্র প্রশাসন ও বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণে নয়, তবে নীল চাষের মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ঘনীভূতভাবে যুক্ত ছিল।
স্বাধীনতার পর প্রায় ৭ দশক কেটে গেলেও, এই নিদর্শন সমাধিগুলো আজও অক্ষত। তারা শুধু ইতিহাসের সাক্ষ্যই নয় একাডেমিক এবং সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। মালদহ মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস এই ব্রিটিশ আমলের এক জীবন্ত বিলোপান্তরিত স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে।
এমন ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলি পর্যটকদের এবং ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণ হতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে এগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ ও সুরক্ষা নিয়ে বেশি সচেতনতা তৈরি করা দরকার। শুধু নজর না দেওয়া হলে, দিনের আলোয় থাকাই সমাধিগুলোও ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে যেতে পারে।
এই চার নীলকড় সাহেবের সমাধি প্রাচুর্যই মাত্র একটি স্মারক, যা ফিরে দেখা ইতিহাসের গভীর দৃষ্টান্ত দেয়। মালদহ এক সময় গড়ে উঠেছিল ব্রিটিশ নীল বাণিজ্যের এক জায়গা, আর আজও সেই স্মৃতি চুপচাপ আমাদের চারপাশে ঘোরে।











