Payel Mithai Sarkar: সমাজসেবী কাজ কখনো প্রচারে আসে না, অথচ কাজ নিজেই নিজের পরিচয় তৈরি করে। ঠিক তেমনি চুপচাপ নিঃস্বার্থ ভাবে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার পথ ধরে এগিয়ে চলেছেন বাঙালি অভিনেত্রী পায়েল মিঠাই সরকার। কখনো নিজেকে সমাজসেবী হিসেবে তুলে ধরেন না তিনি, কিন্তু তার কাজ মানুষের আশীর্বাদ এবং হাজারও কৃতজ্ঞতার সৃষ্টি প্রমাণ দেয় যে সামাজিক ভূমিকার গভীরতা। আর সেই কাজের স্বীকৃতিতেই এবার দিল্লিতে ‘Excellence India Award’ এ সম্মানিত হলেন অভিনেত্রী।
দিল্লির এক পাঁচতারা হোটেলে এক জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী রাষ্ট্রসভার সংসদ এবং বলিউডের কিংবদন্তি জয়া প্রদা পায়েলের হাতে সম্মান তুলে দেন। পায়েলের কাছে এই পুরস্কার শুধু আরেকটি সাফল্য নয়, বরং দায়িত্ববোধের নতুন বার্তা। তিনি বলেন,“এই সম্মান আমার আগামী দিনের কাজকে আরো দায়বদ্ধ করে তুললো। বাংলায় ফিরে মানুষ অন্যভাবে নতুন পায়েল কে দেখবেন”। পুরস্কারটি তিনি উৎসর্গ করেছেন এসিড আক্রান্ত নারী এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করা শিশুদের।
অভিনয়ের সঙ্গে সমাজ সেবায় ও সমান পারদর্শী
নিজের অভিনয় ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সমাজসেবার বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত থেকেছেন দীর্ঘদিন। কখনো এসিড আক্রান্ত মহিলাদের পাশে দাঁড়ানো কখনো ক্যান্সারের সঙ্গে দ্রুত চেয়ে ওঠা কাহিনী নিয়ে কাজ, এভাবেই সমাজের নানা অংশের মানুষদের জীবনে আলো ছড়িয়েছেন তিনি। তার কাজের পরিসর শুধু দান বা আর্থিক সাহায্যের সীমায় আটকে নেই, বরং তিনি একজন পথপ্রদর্শক যিনি প্রান্তিক মানুষের মাঝে থেকে তাদের নতুন করে বাঁচার সহজ দেন।
ইতিপূর্বে ও পায়েল তার সমাজ সেবা মূলক কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে উত্তরপ্রদেশের প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রী সতীশ চন্দ্র দ্বিবেদীর হাত থেকে ‘ভারতীয় যুব ইন্সপিরেশন’ সম্মান গ্রহণ করেছেন তিনি, যেখানেই তাকে শ্রেষ্ঠ সমাজ সেবিকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়েছিল দিল্লির দূরদর্শন ভবন এল.টি.জি অডিটোরিয়ামে, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন উপলক্ষে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রথম মহিলা হিসেবে পায়েল এই সম্মান লাভ করেন যা তার কাজের বিস্তার এবং প্রভাবকেই প্রমাণ করে।
স্বপ্ন, দায়িত্ব ও মানবিকতার একত্র রূপ -পায়েল
পায়েলের সমাজ সেবার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত। তিনি একটি বৃদ্ধা আবাস পরিচালনা করেন যেখানে ৯ জন বৃদ্ধা এবং ক্যান্সার জয়ী ২ মহিলার যত্ন নেওয়া হয়। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অনেকটা সময় তিনি নিয়োজিত করেছেন তাদের উন্নত জীবনের জন্য। নিজেই বলেন,“এটা কোন সাধারণ কাজ নয়। কিন্তু ওরা আমার পরিবার আমার দায়িত্ব।”
আরও পড়ুন: কলকাতা থেকে কম দূরত্বে অফবিট প্লেস, পিয়ালী নদীর তীরে শীতের দিনে এক নিস্তব্ধ অবকাশ যাপন
এই যাত্রায় তিনি মুখমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রেরণার কথাও উল্লেখ করেন। তার কথায়,” মুখমন্ত্রীর সর্বদাই আমার অনুপ্রেরণা তার কাছ থেকে আমি অঢেল ভালোবাসা পেয়েছি আর তাই সমাজের জন্য আরও কিছু করার অনুপ্রেরণা পাই”।
পায়েল মিঠাই সরকারের এই সম্মান তার কাজের প্রতি সমাজের শ্রদ্ধা এবং আস্থার প্রতিফলন। শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নয়, মানবিকতার অন্যতম মুখ হিসেবেও তিনি আজ বাংলার অনেকের কাছে এক আলোকবর্তিকা।








