Premanand Maharaj Disease: মানুষের শরীরে কিডনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীরের বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বার করা থেকে শুরু করে জলের ভারসাম্য বজায় রাখা সবটাই করে কিডনি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে যদিও কোন ব্যক্তি দুটি কিডনি 90% এর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, তবে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন পরিস্থিতিতে একজন রোগীর সর্বোচ্চ ১ থেকে ৩ বছর জীবন ধারণ করতে পারে। কিন্তু এই বৈজ্ঞানিক সত্যকে যেন ভুল প্রমাণ করেছেন বৃন্দাবনের খ্যাতনামা সাধক প্রেমানন্দ মহারাজ।
দুটি কিডনি বিকল, তবুও জীবন তো এক রহস্য
প্রায় ১৯ বছর আগে থেকে এই মহারাজের দুটি কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেছে বলে আশ্রম সূত্রে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে এতদিন ধরে কিডনি ফেলিওর নিয়ে বেঁচে থাকা কার্যত অসম্ভব কিন্তু প্রেমানন্দ মহারাজ যেন এক জীবন্ত উদাহরণ। যা আজও বিজ্ঞান কে বিস্মৃত করে রেখেছে তার শরীরের রোগ(Premanand Maharaj Disease) বাসা বেঁধেছে কিন্তু তিনি আজও ভক্তদের সেবা ও আশীর্বাদ করে চলেছেন।
ভক্তি শক্তিতেই অলৌকিক সহনশক্তি প্রতিদিন ভোরে প্রেমানন্দ মহারাজ বৃন্দাবনের পথে পরিক্রমা করেন। ভক্তরা জানান, শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও তিনি কখনো রাধা-রানীর সেবা ও ভোজন স্মরণে ভাটা পড়তে দেন না। অনেক ভক্ত বিশ্বাস করেন তার দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার রহস্য আধ্যাত্মিক ভক্তি ও ঈশ্বরের কৃপা। বিজ্ঞান যেখানে উত্তর দিতে পারছে না, ভক্তরা মনে করছেন আশীর্বাদেই আজও তিনি সুস্থভাবে চলাফেরা করছেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের চোখে এক অমীমাংসিত ধাঁধা
ডাক্তারি বিকেলে নিয়ম অনুযায়ী ডায়ালিসিস বা কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়া দুটি কিডনি ফেলিওর অবস্থায় এত দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু মহারাজের ক্ষেত্রে যেন সব যুক্তি ব্যর্থ চিকিৎসকেরা একেবারেই বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন। তারা জানান চিকিৎসার নিরিখে এটিই প্রায় অসম্ভব হলেও মহারাজের জীবন যাপন বিজ্ঞান কে ও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
আরও পড়ুন: ভয় নাকি ফ্যাশন? লাবুবু পুতুলকে ঘিরে ছড়াচ্ছে আতঙ্ক ও রহস্য
রাজ কুন্দ্রার কিডনি দান প্রসঙ্গ
সম্প্রতি মহারাজের নাম ফের আলোচনায় আসে যখন বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টির স্বামী রাজ কুন্দ্রা বৃন্দাবনের আশ্রমে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কুন্দ্রা প্রকাশ্যে জানান যে তিনি ইচ্ছুক প্রেমানন্দ মহারাজকে নিজের একটি কিডনি দান করতে।যদিও মহারাজ এ প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। তবে এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষ আবারও তার শারীরিক পরিস্থিতি ও দীর্ঘদিনের সংগ্রাম কথা জানতে পারেন।
ভক্তদের অটল বিশ্বাস
মহারাজের ভক্তরা মনে করেন তার জীবনী এক অলৌকিক কাহিনী। তারা বিশ্বাস করেন আধ্যাত্মিক শক্তি ও ঈশ্বর ভক্তিকে কেন্দ্র করে মহারাজের জীবনধারণ সম্ভব হচ্ছে। আজও দূর দুরান্ত থেকে মানুষ বৃন্দাবনে এসে তার দর্শন করতে প্রেমানন্দ মহারাজ কেবল একজন সাধক নয়, বরং ভক্তির এক জীবন্ত প্রতীক।
Premanand Maharaj Disease নিয়ে আজও চিকিৎসকরা ধাঁধায় রয়েছেন। দুটি কিডনির সম্পূর্ণ বিকল হলেও তারা ১৯ বছর ধরে তিনি সুস্থভাবে বেঁচে আছেন এবং প্রতিদিন ভক্তদের আধ্যাত্মিক দীক্ষা দিচ্ছেন। বিজ্ঞানের চোখে এটি অসম্ভব হলেও ভক্তদের বিশ্বাসে এটি ঈশ্বরের অলৌকিক কৃপা। প্রেমানন্দ মহারাজ প্রমাণ করে দিয়েছেন আধ্যাত্মিক শক্তির সামনে অনেক সময় বৈজ্ঞানিক যুক্তিকেও নতি স্বীকার করতে হয়।











