Small Investment Business Ideas: জলাশয় ও পুকুরে জন্মানো কচুরিপানা সাধারণত আগাছা হিসেবেই পরিচিত। বছরের পর বছর ধরেই উদ্ভিদকে অবহেলা করে এসেছেন মানুষ। জলাশয় এর মুখ আটকে দেওয়া, মাছের বংশবৃদ্ধি বাধার সৃষ্টি করা, যা নৌ যান চলাচলে অসুবিধা তৈরি করার মতো সমস্যার কারণে কচুরিপানাকে বরাবরই ঝামেলার উৎস বলে মনে করা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কৃষিবিজ্ঞান ও জৈব প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সেই ধারণা বদলে যাচ্ছে। সঠিক ব্যবহার জানলে এই উদ্ভিদ থেকেই তৈরি করা যায় আয়ের নতুন পথ জৈব সার, জৈব জ্বালানি এবং তন্তুজ শিল্পের নানা উচ্চমানের পণ্য।
এক্ষেত্রে পথিকৃৎ হয়ে উঠেছে মালদহের গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। বিদ্যালয় এর উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের ভার্মি কম্পোস্ট ইউনিটে কচুরিপানা কে ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণে কেঁচো সার তৈরি করা হচ্ছে। জৈব সারের ক্ষেত্রে কচুরিপানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে এর পাতা ও কান্ড কেঁচোর খাদ্য হিসেবে উপযোগী হওয়ায় দ্রুত সার প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব হয়। ফলের রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে। পরিবেশবান্ধব সাহার উৎপাদনে এটি কার্যকর ও কম খরচে উপাদান।
বিভাগীয় প্রধান বিবেকানন্দ মন্ডল জানিয়েছেন,”কচুরিপানার ব্যবহার এখন আর সীমাবদ্ধ নেই। জৈব সার তৈরির পাশাপাশি জৈব জ্বালানির অন্যতম উৎস হিসেবেও এটি বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে কচুরিপানার তন্তু থেকে বিভিন্ন ধরনের ফাইবার তৈরি সম্ভব, যা ভবিষ্যতে শিল্পক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সত্যি বর্তমানে পরিবেশ বান্ধব পনির চাহিদা বাড়ায় ফাইবার ক্যারি ব্যাগ হস্ত নির্মিত কাপড় শয্যা সামগ্রী ইত্যাদি তৈরিতে কচুরিপানা থেকে নিষ্কাশিত তন্তুর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে।
এছাড়াও পরিবেশগত দিক থেকেও কচুরিপানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি জলাশয় দূষণ শোষণ করে জলকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। জলাশয় পরিষ্কার রাখতে এবং ত্রাণ বৈচিত্র রক্ষা করতেই উদ্ভিদের সক্রিয় প্রভাব দেখা যায়। নিয়ন্ত্রিতভাবে কচুরিপানার বৃদ্ধি বজায় রাখলে এটি পরিবেশবান্ধব ভারসাম্য রক্ষা করতেও ভূমিকা রাখতে পারে যা অনেকেই এখনো জানেন না।
আরও পড়ুন: লকডাউন শিখিয়েছে নতুন পথ বাড়িতে বসেই ব্যবসার সুযোগ, বার্ষিক ‘ক্লাউড কিচেন’ এর জনপ্রিয়তা
অনেক সময় অবহেলিত হওয়া সত্বেও এই জলজ উদ্ভিদের সম্ভাবনা বিশাল। উন্নত জৈব প্রযুক্তির যুগে কচুরিপানার পুনর্ব্যবহার বা রিসাইকেলিং এর অন্যতম শক্তিশালী সম্পদ হয়ে উঠেছে। শিল্প কৃষি ও পরিবেশ তিন ক্ষেত্রেই এর প্রয়োগ বাড়ছে। গবেষকেরা মনে করছেন, আগামী দিনের পাশের জমিতে জৈব সার উৎপাদন থেকে শুরু করে স্থানীয় শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে কচুরিপানার বিকল্প ব্যবহার আরো প্রয়োজনীয় হবে। সঠিকভাবে ব্যবহারের উপায় জানলে চাষীদের আয় বাড়বে এবং গ্রামীন অর্থনীতিতে তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান।
পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে কচুরিপানার বাণিজ্যিক মূল্য ও চাহিদা মাফিক বাড়ছে। অবহেলার সেই পরিচয় ঝেড়ে ফেলে কচুরিপানা এখন সম্ভাবনার নতুন দিশা পরিবেশ রক্ষা কৃষি উন্নয়ন এবং গ্রামীণ শিল্প বিকাশের এক আধুনিক উপাদান।











