Strait of Hormuz India Iran Conflict: মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পদ হরমোন প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় ভারতীয় পতাকা বাহিরে একাধিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই ঘটনাটি শুধু একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেনি, বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সামনে এনে দিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় অন্তত দুটি ভারতীয় জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কপস নৌবাহিনী তরফ থেকে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠে যে জাহাজ শেষ পর্যন্ত পথ পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। তবে সত্যির খবরে এই ঘটনায় কোন নাবিক আহত হননি।
এই ঘটনার পর ভারত সরকার তৎপরতা বাড়িয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রক ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানাই এবং ভারতীয় জাহাজগুলি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়। কারণ হরমোনে দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়, ফলে এই অঞ্চল যে কোন অশান্তি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে এই ঘটনা পেছনে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। একদিকে ইরানের বিদেশ মন্ত্রক আন্তর্জাতিক মহলে শান্তিপূর্ণ বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে IRGC মাছে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। ফলে এক সময় ভিন্ন ভিন্ন বার্তা সামনে আসার বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ইরানা হরমুজ প্রণালী আংশিক ভাবে বন্ধ করে দেয় এবং সতর্ক করে দেয় যে তাদের অনুভূতি ছাড়া অন্য জাহাজ চলাচল করতে পারবেনা। এই সিদ্ধান্তের জেরে বহু জাহাজ আটকে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চাপ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: উত্তেজনার মাঝেও ভারতের পাশে ইরান, হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় ট্যাঙ্কারের কোন টোল নয়
এই পরিস্থিতির জেনে ভারত ও নিজেদের স্বার্থর রক্ষায় সক্রিয় হয়েছে। দেশের জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে এবং ভারতীয় জাহাজ গুলি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক তরেও সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি দ্রুতই উত্তেজনা প্রশমিত না হয় তবে আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালী শুধু একটি সামুদ্রিক পথ নয় এটি বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম লাইফ লাইন।
সব মিলিয়ে, ভারতীয় জাহাজে গুলির ঘটনা শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন নজর হয়েছে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কতটা দ্রুত স্বাভাবিক করা যায়।











